সকাল ০৮:৫৯ ; বুধবার ;  ১৪ নভেম্বর, ২০১৮  

পরনে পাঞ্জাবি

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

লাইফস্টাইল প্রতিবেদক ॥

“বছরে না হয় একবারই কিনবো। তাও চাই বছরের সেরা পাঞ্জাবিটি।” ভাবছেন এটা কার কথা‍! এই কথা আসলে বেশির ভাগ ছেলের মনের কথা। ছেলেগুলো এমনই হয়। এমনিতে সারাবছর চুপটি মেরে বসে থাকবে। মার্কেটমুখো করানোটাই প্রায় অসম্ভব- সেখানে কেনাকাটা তো দূরের কথা! সেই ছেলের দলই রমজানের শেষ দশদিনে নিজের এলাকা তো বটেই পারলে গোটা শহর চষে বেড়ায় মনের মতো পাঞ্জাবি খুঁজে নেওয়ার জন্য। এই ফ্যাশন হাউজ থেকে সেই ফ্যাশন হাউজ। উত্তরার এই প্লাজা থেকে একেবারে নিউ মার্কেটের চেনা গলি। এমনকি চাঁনরাতের পুরো রাত। সব মিলিয়ে বছরের ব্যস্ততম কেনাকাটার সময়টা তাদের জন্য এখনই। তাই বাংলা ট্রিবিউন লাইফস্টাইল নিয়ে এলো তরুনদের জন্য পাঞ্জাবির খোঁজ খবর।

আজিমপুরের শান্ত কিশোর বেলা থেকেই চাঁনরাতে পাঞ্জাবি কিনে থাকেন। কিন্তু শপিং মলে ঘুরাঘুরি শুরু করেন রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে। তিনি জানালেন, আমার কেন যেন মনে হয় সেরা পাঞ্জাবিগুলো আসে ঈদের আগে আগে। একই মতামত কলাবাগানের রবির। রবি আরও জানালেন নিজের পছন্দের কথা। এমনিতে একটু জমকালো পাঞ্জাবি কেনার ইচ্ছা থাকলেও এবার গরমের জন্য হয়তো সুতি পাঞ্জাবি কেনা হবে। তবে পাঞ্জাবিতে থাকতে পারে নতুন ধরনের কোন কাজ।

আরামের কাপড়ে নজরকাড়া পাঞ্জাবি  

বাজার ঘুরে দেখা গেল রবির মতোই অনেকে খুঁজছেন আরামদায়ক কাপড়ে তৈরি ভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবি। বোতামে ভিন্নতা বা গলার কাছে সামান্য কাজের পাঞ্জাবি নিচ্ছেন কেউ কেউ। অনেকের হাতে উঠে আসছে প্রিন্ট কাপড়ের পাঞ্জাবি। স্ট্রাইপ বা সিঙ্গেল লাইনের প্রিন্টেড পাঞ্জাবির পাশাপাশি বেশ চলছে অন্য প্রিন্টের পাঞ্জাবি। পাতা পাতা প্রিন্ট বা ব্লকপ্রিন্টের পাঞ্জাবিও আছে পছন্দের তালিকায়।

পাঞ্জাবির কাপড় নিয়ে চলছে গবেষণা

এবারের ট্রেন্ড অনুযায়ী ছেলেরাও বেছে নিচ্ছে হ্যান্ডপেইন্ট-এর পাঞ্জাবি। ছেলেদের হ্যান্ডপেইন্ট পাঞ্জাবিতে ফুটে উঠছে উৎসবের রং। অপরদিকে প্যাচওয়র্কের পাঞ্জাবিও আছে ছেলেদের পছন্দের তালিকায়। শুধু নেকলাইনে বাহারি কাপড়ের প্যাচওয়ার্কে পাঞ্জাবি পাচ্ছে নতুন মাত্রা।

পাঞ্জাবিটা একরঙা হলেও উৎসবের আমেজ আনবে নেকলাইনের কাজ

শুধু যে গলার কাছে বা নেকলাইনজুড়ে কাজই চলছে -এবার তা নয় মোটেই। সময়টা ভীষণ গরম বলে বাটিক বা টাইডাইয়ের পাঞ্জাবিও চলছে। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে পাওয়া যাচ্ছে এধরনের পাঞ্জাবি।

গ্রীষ্মকালকে মাথায় রেখে পাঞ্জাবিতে উৎসবের আমাজে আনতে পিছিয়ে নেই দেশের নামকরা ফ্যাশন হাউজগুলো। দেশি কাপড়ে ঈদের স্বাদ আনতে আনা হচ্ছে কাটিংয়ে ভিন্ন মাত্রা। কে ক্রাফট, রঙ, বিবিয়ানা, চরকা, দেশাল, অঞ্জনস, এমদাদ স্টুডিও সহ সবগুলো ফ্যাশন হাউজ এখন ঠাসা দেশীয় পাঞ্জাবিতে। প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে উজ্জ্বল রংগুলোকে। 

উজ্জ্বল রঙে উৎসবের পোশাক

ফ্যাশন হাউজের পাশাপাশি প্রায় সবগুলো মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে লং পাঞ্জাবি ও শর্ট পাঞ্জাবি। আজিজ সুপার মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিং মল বা নিউমার্কেট- সবখানেই পাশাপাশি কায়েম আছে শর্ট এবং লং পাঞ্জাবির রাজত্ব।

যুগের সঙ্গে না মিললে সে আবার কেমন ফ্যাশন! তাই না? এজন্য এসময়ের চাহিদা অনুযায়ী চলছে হাউন্ডস্টুথের পাঞ্জাবি। আছে চেক, একটু জমকালো ভাব আনতে ডলার এবং সামান্য পুতির কাজের চাহিদাও। তবে গেল কয়েক বছরের মতো নিজের পছন্দের কাপড় কিনে ঈদের পাঞ্জাবি বানানোর ট্রেন্ডও আছে এবার। আছে পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে একই কাপড়ে বানানো সবার পোশাকের পারিবারিক আয়োজনও।

একটু বড়সড় আকারের মানুষগুলো শতাব্দি, পিরাণ বা বিবিয়ানাতে ঢুঁ মারছেন নিজের সাইজের পাঞ্জাবি খুঁজতে। অথবা বেছে নিচ্ছেন দর্জিবাড়িতে করা মর্জিমতো পোশাক।

গরমের ঈদে চাই স্বস্তির পাঞ্জাবি

সব মিলিয়ে পাঞ্জাবি কেনার বাজারটা রমরমা থাকবে ঈদের আগের গভীর রাত পর্যন্ত।

 

পোশাক: চরকা

মডেল: অথৈ রহমান, মোহাম্মদ ইলিয়াস এবং শরাফত হোসেন 

ছবি: আসাদ-উস সাকী 

 

আরএফ   

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।