রাত ০১:১৫ ; শুক্রবার ;  ২১ জুন, ২০১৯  

তরুণদের গল্পে সবার ঈদ

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

ঈদের সময় বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত নাটকগুলো দেখার জন্য মুখিয়ে থাকেন অনেকে। তরুণ প্রজন্মের মধ্য থেকে সেই নাটকের গল্পকারদের তুলে আনতে গত চার বছর ধরে বৈশাখী টেলিভিশন আয়োজন করে আসছে 'তোমার গল্পে সবার ঈদ'। এটি বর্তমানে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তরুণ নাট্যকার নির্মাণের একটি বড় প্লাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এবারের সিজন-৪ এ সারা দেশ থেকে এসেছিল ১২ হাজার গল্প। সেখান থেকে তিনটি স্তরে বাছাইয়ের পর সর্বশেষ নির্বাচিত করা হয়েছে পাঁচটি গল্প। তবে এসব আনুষ্ঠানিক কথাবার্তার বাইরে এবারের আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল ভিন্ন একটি ক্ষেত্রে। তা হচ্ছে নির্বাচিত পাঁচটি গল্পের লেখকই তরুণ। আর তরুণ এই লেখকদের নির্বাচিত সেরা ৫ গল্প হচ্ছে ইয়াসমিন সেলিমের জীবনের রং, মুনতাসির মারুফের ফেরা, মো. আনারুল ইসলাম রানার নির্জন স্বাক্ষর, ওসমান সজীবের মাতাল হাওয়া এবং মো. আজহারুল হকের বৃষ্টি বা রোদ অথবা অন্য কিছু।

শুধু নাট্যকার নয়, বৈশাখী টেলিভিশনের এ আয়োজন পুরোপুরি হয়ে উঠেছিল তারুণ্যনির্ভর এক নাট্যকার তৈরির প্ল্যাটফর্ম।

নাট্যাঙ্গনে আগে থেকেই পরিচিত আলভী আহমেদ ও চয়নিকা চৌধুরী। এছাড়া সাম্প্রমিক সময়ে নাটক নির্মাণে নিজেদের পারদর্শিতা দেখাতে সার্থক হয়েছেন আশফাক নিপুণ, গৌতম কৈরী ও রুবাইয়াত মাহমুদ। এই চেনা পাঁচ নির্মাতাই কাজ করবেন দর্শকদের গল্প নিয়ে। ফলে কমবেশি বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রায় পুরোপুরি তারুণ্যনির্ভর রচয়িতা এবং নিমার্ত‌‌‌াদের সমন্বয়ে তৈরি হতে যাচ্ছে 'তোমার গল্পে সবার ঈদ' এর আয়োজন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত তরুণ এই নাট্যকারদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে একে একে প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্রেস্টসহ নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা। এ সময় নতুন এ লেখকেরা তুলে ধরেন দেশের প্রতিষ্ঠিত মিডিয়াগুলোর কাছে তরুণ লেখক হিসেবে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির কথা।

এ সময় 'বৃষ্টি বা রোদ অথবা অন্য কিছু' নাটকের রচয়িতা মো. আজহারুল হক বলেন, 'একটা সময় আসবে যখন বয়সে প্রবীণ লেখকেরা লেখনীর এই আলোকবর্তিকা তরুণ লেখকদের কাছে হস্তান্তর করবেন।এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু কেউ চাইলেই তো আর লেখক হয়ে উঠতে পারে না। সেজন্য যেমন প্রয়োজন সৃজনশীলতা, একইসঙ্গে প্রয়োজন কিছু ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ। আর এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সে বিষয়টি কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।'

একই কথা বলেন ইয়াসমীন সেলিম, ওসমান সজীব, মো. আনওয়ারুল ইসলাম। তারা সবাই একবাক্যে বলেন, নিজেদের ভাবনাগুলোকে মিডিয়াতে প্রকাশ করার এ সুযোগ একটি বড় প্লাটফর্ম। এক্ষেত্রে শুধু আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান নয়, প্রয়োজন অন্যান্য টেলিভিশন মিডিয়ারও এগিয়ে আসা।

একটু ভিন্ন আঙ্গিকে নিজের দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন অপর গল্পকার মুনতাসির মারুফ। তিনি বলেন, এই পুরস্কার অর্থমূল্য বা ক্রেস্টের ওপর নির্ভর করছে না। বাংলা সাহিত্যের বতর্মান দিক নির্দেশকরা আমাদের গল্প পড়েছেন এবং বিবেচনায় এনেছেন এটি অনেক বড় প্রাপ্তি। আমরা গল্প জমা দিয়েছিলাম নাট্যকার হবার ইচ্ছায়। যারা সিলেক্টেড হয়েছি অনন্ত এটুকু প্রমাণ করতে পেরেছি যে আমাদের গল্প নাটক হবার মতো। আমাদের গল্প থেকে যে নাট্যকার নাটক বানাচ্ছে সেই নাট্যরূপ দেওয়া স্ক্রিপ্টগুলো এবং শ্যুটিং- এর সময় যদি আমার স্থানটিতে যেতে পারি, তাহলে সেটি আমাদের জন্য অনেক সহায়ক হবে ভবিষ্যতে নতুন করে লেখার জন্য।'

'তোমার গল্পে সবার ঈদ' পুরো প্রক্রিয়াটির গল্প বাছাই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তিনটি ধাপে। প্রথম ধাপে জমা পড়া ১২ হাজার গল্প থেকে ৩০০ গল্প বাছাই করা হয়। দ্বিতীয় দফায় গল্প বাছাইয়ে অংশ নেন খ্যাতিমান পাঁচ সাহ্যিতিক, নাট্যকার ও নির্মাতা। তারা হলেন গাজী রাকায়েত, শাকুর মজিদ, ইরাজ আহমেদ, পান্থ শাহরিয়ার এবং কায়েস চৌধুরী। তাদের বাছাই করা সেরা ৩০ গল্প যায় প্রধান তিন বিচারকের কাছে। প্রধান তিন বিচারক সেলিনা হোসেন, ইমদাদুল হক মিলন ও আনিসুল হক বাছাই করেন সেরা পাঁচ গল্প।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বৈশাখী টেলিভিশনের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু আলম, প্রধান নির্বাহী ও প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল, প্রধান বিচারক কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন এবং সাহিত্যিক আনিসুল হক।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, 'তরুণ লেখকদের লেখনীর সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তারা তাদের লেখায় সমাজের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরতে পারেন। এক্ষেত্রে খুবই গুরত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সেটা হচ্ছে লেখা শুধু লেখা নয়, এটি ইতিহাস। আর লেখার ক্ষেত্রে শুধু স্থান, কাল, ক্ষেত্র বিবেচনায় না রেখে লেখার গঠন ও কাঠামোর মত মৌলিক বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া।'

ভবিষ্যতে তরুণ দেখদের লেখা আরও গঠনমূলক করে তুলতে পরবর্তী আসর থেকে বিশেষভাবে বাংলা ভাষা ওপর আরও দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেন বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী মনজুরুল আহসান বুলবুল।

ফলে গল্প লেখা মানে শুধু লেখা নয়, এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ভাষার উৎকর্ষ সাধন। আর সঠিকভাবে বাংলা ভাষা ব্যবহার এবং এর পরিচর্যার মধ্য দিয়ে তরুণরাই পারে নিজেদের ভাষাকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে।

নিজের লেখা গল্প দিয়ে আপনিও অংশ নিতে নিতে পারেন লেখক তৈরির নতুন এ প্লাটফর্মে।

/এআই/এমপি/

 

 

 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।