সকাল ১০:৪৮ ; রবিবার ;  ২১ এপ্রিল, ২০১৯  

ভ্যাট দেবে না তরুণরা!

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

এহতেশাম ইমাম ॥

সরকারের আরোপিত শিক্ষা ভ্যাটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ক্যাম্পেইন করছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা। ভাবতেই পারেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবার কী সমস্যা! তাদের তো অর্থকড়ির অভাব নেই!

যারা মনে করেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধু ‍অর্থের ছড়াছড়ি এবং ফাস্টফুড,শপিং ও দামি গাড়িতে করে ক্লাস করতে আসা ধনী পরিবারের সন্তানদের চাকচিক্য; তাদের বলছি- ঝেড়ে ফেলুন সেই চিত্র। 

শুধু স্বচ্ছল পরিবারের সন্তাদের শিক্ষাক্ষেত্র নয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংকটের কারণে বা সেশনজট কমাতে বাধ্য হয়ে অসংখ্য নিন্মমধ্যবিত্ত পরিবারের ভরসার জায়গা এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে অনেক শিক্ষার্থীরাই উপার্জন করে বহন করছে নিজের শিক্ষার খরচ।

গত দেড়যুগে দেশে কয়েক লক্ষা্ধিক শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থান সংকুলান হয় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীর। বাকি ৬০ ভাগ ছেলেমেয়ে পড়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। দেশে বর্তমানে ৮৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে।

পরিসংখ্যানগুলোই জানিয়ে দিচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ও সামাজিক অবস্থানের কথা। চাইলেই সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট দিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সামর্থ্য অনেকেরই নেই। তাই উঠে এসেছে ভ্যাট বিরোধী ক্যাম্পেইন ও অভিনব প্রতিবাদ।

৯ জুলাই ধানমণ্ডির ৭/এ সড়কে সকাল ১০টা থেকে কার্টুন প্রদর্শনী, পথনাটক, আল্পনা আঁকাসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ করবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া ১০ থেকে ১৪ জুলাই অর্থমন্ত্রী বরাবর চিঠি জমা দেবে শিক্ষার্থীরা। পুরো আয়োজনটিতে নিজের অভিমত তুলে ধরতে লিখতে পারেন novatoneducationbd@gmail.com এই ঠিকানায়।

তরুণদের এই অভিনব প্রতিবাদ ও প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের শিক্ষক সুমন রহমান বলেন, অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্যের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ব্যাখ্যা করলে দেখা যাচ্ছে রাজস্ব আদায়ে শিক্ষার্থীদের তুলনা করা হচ্ছে পণ্য হিসেবে। যেটি সম্পূর্ণ অপ্রচলিত একটি বিষয়। আমার সবাই জানি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে ঝুঁকছে শিক্ষার্থীরা।                

            

দেশের প্রথম সারির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যয়ভার বেশি। টিউশন ফি বেড়ে গেলে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই চাইবে কম ব্যয়বহুল প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকতে। যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে শিক্ষার মানে। ফলাফল, একটি প্রজন্ম অদক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে।’ তিনি শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদকে স্বাগত জানান।

এদিকে শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়লে এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে শঙ্কার কথা জানান অপর শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন। তার মতে, শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার পুরোপুরি সাফল্য পায়নি। সংবিধানে বলা আছে নাগরিক হিসেবে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি। এ অবস্থায় যদি ভ্যাট আরোপ করা হয়, তাহলে পুরো বিষয়টি হিতে বিপরীত হবে। অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবন সম্পন্ন না করতে পারবে না। ফলে বিপথগামী হবার আশঙ্কাও আছে।

তবে কোনও সমস্যার সমাধান সংঘাত দিয়ে সম্ভব নয়। এ কারণে শুধু ক্যাম্পেইন বা সরকারকে আল্টিমেটাম নয়, পরিস্থিতি ঠিক করতে হবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে।

/এফএএন/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।