সকাল ১০:৩৩ ; রবিবার ;  ২১ এপ্রিল, ২০১৯  

উদ্যোগটা শুরু হোক নিজ থেকে

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

এহতেশাম ইমাম ।।

উন্নয়নের ধারা কী শুধু বড় বড় আর্ন্তজাতিক দাতব্য সংস্থা থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারকদের হাত ধরে? আপাত সম্ভব মনে হলেও বিষয়টি আসলে অসম্ভভ না। কারণ উন্নয়নে সবার আগে দরকার নিজের ইচ্ছা শক্তি আর সঙ্গে প্রচেষ্টা। সে ক্ষেত্রে এ ধারা আর কেই বা তুলে ধরতে পারে তরুণরা ছাড়া। আর তেমনি কিছু ব্যক্তি পর্যায়ের উদ্যোগ নিয়ে এসেছেন বেশকিছু তরুণ। যাদের লক্ষ্য ব্যক্তি পর্যায়ের উদ্যোগগুলোর প্রভাব বিস্তার করানো সার্বিক উন্নয়নে।এমন কিছু উন্নয়নের কাজ নিজ দায়িত্ববোধ থেকে নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তারুণ্যনির্ভর স্বেচ্ছাসেবী দল ‘প্রজেক্ট কম্বল’।

মনে আছে সেই কনসার্টের কথা। যেখানে গান শুনতে শ্রোতাদের নিয়ে আসতে হয়েছিল একটি করে কম্বল। যেগুলো পরো পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল দেশের ৩২টি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সেটা সমাদৃত হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে পুরো বিশ্বব্যাপী।

এবার সেই প্রজেক্ট কম্বল থেকে সম্প্রতি আয়োজন করা হয়েছিল একক পর্যায়ে সমাজসেবায় তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে সপ্তাহব্যাপী কর্মশালার। ধানমন্ডির ইএমকে সেন্টারে সপ্তাহব্যাপী ‘রোড টু সোস্যাল ওয়ার্ক’ কর্মাশালা থেকে তুলে আনা হয় ব্যক্তিগত পর্যায়ে তরুণরা কিভাবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অবদান রাখতে পারেন। সে লক্ষ্যে কর্মশালায় অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের কাছে চাওয়া হয়েছিল নিজেদের পরিকল্পনার কথা। যার মধ্যে থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে বেশ কয়েকটি প্রজেক্ট। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে দুটি প্রজেক্ট প্রায় সম্পূর্ণ হবার পথে। যার একটি হচ্ছে প্রজেক্ট টু এডুকেশন। আর অপরটি প্রজেক্ট টু ওমেন।

প্রজেক্টগুলোর লক্ষ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত জানালেন প্রজেক্ট দুটির উদ্যোক্তারা। রোড টু সোশ্যাল ওয়ার্কের প্রশিক্ষণার্থী আতিয়া নূর চৌধূরী বলেন, নারীদের মাসিক বিষয়টি প্রাকৃতিক হলেও দারিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা কম। ফলে, অপরিচ্ছন্ন কাপড় ব্যবহার থেকে শুরু করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এ জাতীয় বিষয়গুলো শরীরের জন্য আরও ক্ষতিকর। এ অবস্থায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে একটি নির্দিষ্ট এলাকার নারীদের সচেতন করাসহ পরিচ্ছন্ন কাপড় দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছি। কারণ দরিদ্র এ মানুষগুলোর পক্ষে প্রাথমিকভাবে প্যাড ব্যবহার একটু অস্বাভাবিক লাগতে পারে। আমরা প্রতি মাসে দু’বার করে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আলোচনা অব্যাহত রেখেছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আতিয়া আরও বলেন, ফেসবুক অনুসারীদের জন্য ব্যক্তিগত পর্যায়ে থেকে সচেতনতামূলক স্ট্যাটাস আপডেটের মাধ্যমে তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে প্রতিদিন। যাতে করে তথ্যগুলো মানুষের কাছে পৌঁছানো থেকে শুরু করে মানুষদের সচেতন করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

এ সময় স্কুল নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানান ‘রোড টু সোশ্যাল ওয়ার্ক’- এর প্রশিক্ষণার্থী এবং লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিজ থেকে সদ্য পাশ করে বের হওয়া দেওয়ান মোহাম্মদ ইমরান। তিনি বলেন, মিরপুর বিহারী ক্যাম্পে পিএমআই নামের একটি স্কুল আছে। সেখানে জায়গার তুলনায় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অধিক। একদিন গিয়ে দেখি শিক্ষার্থীদের কয়েকজন মেঝেতে বসে ক্লাস করছে পর্যাপ্ত বেঞ্চ না থাকায়। এ অবস্থায় আমরা রোড টু সোশ্যাল ওয়ার্ক- এর সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেই নিজ উদ্যোগে শিশুদের জন্য বেঞ্চ তৈরি করে দেওয়ার।

তিনি বলেন, আপেক্ষিক অর্থে এটি বলার মতো কোনও বিষয় না হলেও আমাদের বিশ্বাস শুধু এনজিও কিংবা দাতব্য সংস্থা নয়, সচেতনতা আসতে হবে ব্যক্তি পর্যায় থেকে। আর এটি বেশি সম্ভব তরুণদের কাছ থেকে।

ব্যক্তি পর্যায় উন্নয়নে অবদান রাথার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। উদ্যমী এই তরুণদের মতে সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজন অর্থশালীদের গঠনমূলক কার্যক্রম আর সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি। রোড টু সোশ্যাল ওয়ার্ক- এর তরুণদের কার্যক্রম সর্ম্পকে আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে পারেন এই লিঙ্কে www.facebook.com/roadtosocialwork.

এ ছাড়া তরুণদের এ উদ্যোগকে আরো গতিশীল করতে সহায়তা করতে যোগাযোগ করতে পারেন

মিঠুন দাশ কাব্য- ০১৭২২ ৩৩৫৫৯৯

রাগিব রহমান সুদিপ্ত-০১৬৮১৩৭২৮২৬

বিকাশ করতে পারেন : ০১৯২৫০৭৭১০৩৮

/এমপি/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।