রাত ০৩:৪৪ ; রবিবার ;  ১৬ জুন, ২০১৯  

আমার ভুলের জন্য কারও ক্ষমা চাওয়ার অধিকার নেই: এরশাদ

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

 

২০১৫-১৬ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পক্ষে ক্ষমা চেয়ে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের দেওয়া বক্তৃতার অংশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এরশাদ। তিনি বলেন, সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে একটি শব্দ ব্যবহার করেছিলাম। পরে আমি ওই শব্দটি প্রত্যাহার করি। আমার বক্তব্যের পর বিরোধী দলীয় নেতা আমার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। এটা তার এখতিয়ার বর্হিভূত। এটা তিনি পারেন না। সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ সব কথা বলেন।

এরশাদ বলেন, তার (রওশনের) বক্তব্যে আমার বক্তব্য-সংক্রান্ত যে শব্দগুলো আছে, তা প্রত্যাহার করা হোক। রওশন এরশাদের প্রতি ইঙ্গিত করে এ সময় তিনি আরও বলেন, আমার ভুলের জন্য অন্য কারও ক্ষমা চাওয়ার অধিকার নেই। বাজেট আলোচনার দেওয়া নিজের বক্তব্য খণ্ডন করে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেন, আমি যে শব্দটি ব্যবহার করেছিলাম, সেটি ‘আন-পার্লমেন্টারি’ নয়। তারপরও আমি প্রত্যাহার করেছিলাম। এরপর কী এক্সপান্স করা যায়? এক্সপান্স করায় আমি মনে দুঃখ পেয়েছি। কিন্তু কিছু করার নেই। যেহেতু এক্সপান্স করা হয়েছে আমাকে দুঃখ নিয়েই মরতে হবে।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, সেদিন আমি নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে একটি শব্দ ব্যবহার করেছিলাম, যা নারী সদস্যরা প্রতিবাদ করেছিলেন। যে কারণে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে যে কথাটি বলতে চেয়েছিলাম, সেটা বলতে পারিনি।  তিনি বলেন, আমরা নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলি। আমরা প্রায়ই বলি, আমাদের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী। কিন্তু আমাদের নারীরা কি ক্ষমতা অর্ধেক ভোগ করেন? আমরা কি নারীর নিরাপত্তা দিতে পেরেছি? এখনও বৈষম্য রয়েছে। তারা সমান সুযোগ পাচ্ছেন না। নারী শ্রমিকরা পুরুষের সমান কাজ করেও সমান পারিশ্রমিক পান না। নারীরা নির্যাতনের শিকার হয়, লাঞ্ছনার শিকার হন, পুলিশের কাছে বিচার না পেয়ে আত্মহত্যা করেন।

স্পিকারের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, আপনি বিদূষী নারী, আপনি স্পিকার হয়েছেন, সিপিএ সভাপতি হয়েছেন। বাংলাদেশের জন্য গৌরব অর্জন করেছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী-পুরুষের বিভাজনের মধ্যে পড়েন না। বড় কথা তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকার ও সমাজের দায়িত্ব।  তিনি আরও বলেন, এই সংসদেই ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য রয়েছেন, তারা কি আমাদের সমান সুযোগ পান? পান না। আমরা যে বরাদ্দ পাই, তারা তা পান না। বিভাজন এখানেই। বিভাজন দূর করতে হলে এখান থেকেই করতে হবে।

এ সময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ সকল নারী ও পুরুষ সদস্যরা হাসতে থাকেন। অনেক নারী সদস্য তার বক্তব্যে টেবিল চাপড়িয়ে অভিনন্দন জানান।

 এর আগে গত ৩০ জুন ২০১৫-১৬  অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে এরশাদ বলেছিলেন, ‘নারীর ক্ষমতার কথা বলা হয়। আসলে নারীরা শোপিস, এরা হলো শোপিস।’

/ইএইচএস/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।