সকাল ১০:০২ ; রবিবার ;  ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯  

"মোল্লাদের বিরোধিতাই নারীদের এগুতে দেয়নি"

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

নিজস্ব প্রতিবেদক॥

বিডব্লিউসিসিআই প্রগ্রেসিভ অ্যাওয়ার্ড-২০১৩' প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন শিল্পমন্ত্রী

নারী উদ্যোক্তাদের বড় সমস্যা অর্থায়ন। প্রয়োজনীয় ঋণের অভাবে অনেক সময় নারীর উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়। আর এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

সম্প্রতি রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই) প্রগ্রেসিভ অ্যাওয়ার্ড-২০১৩’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। প্রগ্রেসিভ অ্যাওয়ার্ড-২০১৩ অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করেছে ইফাদ গ্রুপ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিডব্লিউসিসিআই'র সভাপতি সঙ্গীতা আহমেদ, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সেলিমা আহমাদ, গ্রীণডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ফারজানা চৌধুরী, ইফাদ গ্রুপের পরিচালক তাসফিন আহমেদ প্রমুখ।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তাদের বন্ধক ছাড়া ঋণ দিতে চায় না। কিন্তু বর্তমান সরকার কোন বন্ধক ছাড়াই ঋণের ব্যবস্থা করেছে। বর্তমানে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বন্ধক ছাড়া ঋণ পাওয়া যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এর সীমা বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে নারীদের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। দেশের নারীরা এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে স্বীকৃতি পাচ্ছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, নারীদের পিছিয়ে থাকার মূলে কাজ করছে সাম্প্রদায়িকতা। নারীদের উন্নয়নে যখনই সরকার প্রগতিশীল কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছে তখনই মোল্লারা এর বিরোধিতা করে নারী উদ্যোক্তাদের এগুতে দেয়নি।

সাম্প্রদায়িক মৌলবাদীরা আবার যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের এই সিনিয়র নেতা।

অনুষ্ঠানে বিডব্লিউসিসিআই'র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সেলিমা আহমাদ বলেন, বাংলাদেশের নারীরা এগিয়ে গেছে। আরও এগুতে সরকারের সহযোগিতা লাগবে। তিনি বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সহজে নারী উদ্যোক্তারা ঋণ দিতে চায় না। ঋণ দিলেও সুদের হার অনেক বেশি থাকে। নারী উদ্যোক্তাদের ঋণের ক্ষেত্রে গ্রেস পিরিয়ড ছয় মাস করারও দাবি জানান তিনি।

সেলিমা আহমাদ বলেন, নারীরা এখন আর বুটিক ও বিউটি পার্লারে আবদ্ধ থাকতে চায় না। তারা এখন বড় বড় শিল্প-কারখানা করতে চায়। তাই ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে নারীবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চল এলাকায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৩০ শতাংশ জায়গা বরাদ্দের দাবিও জানান সেলিমা আহমাদ।

বিডব্লিউসিসিআই প্রগ্রেসিভ অ্যাওয়ার্ড-২০১৩’ পেলেন যারা-

বরিশাল বিভাগ থেকে মামনি টেইলার্সের সত্ত্বাধিকারী আয়মা আকতার, চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে আবির বুটিকস হাউসের মালিক শামিমা আরা লিপি, ঢাকা বিভাগ থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বর্ণালী’র স্বত্তাধিকারি ফারজানা ফাতেমা, খুলনা বিভাগ থেকে তানজিমা হস্তশিল্পের প্রধান নির্বাহী তানজিমা জেসমিন, রংপুর বিভাগ থেকে কারুপণ্যের স্বত্ত্বাধীকারী চন্দনা ঘোষ, রাজশাহী বিভাগ থেকে সংযুক্তা বুটিকস হাউসের মরিয়ম বেগম এবং সিলেট বিভাগ থেকে মোনালিসা লেডিস টেইলার্স এর ফরিদা আলম। এছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিবেদনের জন্য ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া থেকে বৈশাখী টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার ইমতিয়াজ শাহরিয়ার ইমন ও প্রিন্ট মিডিয়া থেকে দৈনিক সমকালের স্টাফ রিপোর্টার শামসুল হক মো. মিরাজ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রধান অতিথি হিসেবে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা, সনদপত্র ও ক্রেস্ট তুলে দেন।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।