রাত ০১:১১ ; শুক্রবার ;  ২১ জুন, ২০১৯  

দেশের প্রথম ক্যাম্পাস টিভি

প্রকাশিত:

মনন মুনতাকা॥

দিন দিন গণমাধ্যমের ওপর বাড়ছে নির্ভরশীলতা। রকমভেদে প্রিন্ট, টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইনভিত্তিক সাংবাদিকদের সক্রিয় পদচারণা রয়েছে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে। দেশ-বিদেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তুলে ধরা, ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পাঠকের সামনে প্রতি নিয়তই তারা তুলে ধরছেন আলো-অন্ধকারের পৃথিবীর নানা দৃশ্যপট ও সমীকরণ। প্রযুক্তিগত ভিন্নতার কারণে সংবাদ প্রকাশে ধরনের ভিন্নতা এলেও সব মাধ্যমের সংবাদেরই রয়েছে একটি শৈল্পিক চরিত্র। এসব সংবাদের নেপথ্যের কারিগর সংবাদকর্মীদের অনেকেই নিজের আগ্রহে কাজ শুরু করলেও অনেকদিন ধরেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক্ষেত্রে পথিকৃতের ভূমিকায়। তবে বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও বর্তমানে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা বিষয়টি পড়ানো হচ্ছে। তেমনই একটি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)। যেখানে হাতে-কলমে কাজ শিখে এরই মধ্যে সৃজনশীল সাংবাদিকতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন বেশ কিছু উদীয়মান তরুণ সাংবাদিক। প্রতিবছর তৈরি হচ্ছেন আরও অনেক নবীন মুখ।

সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে গত এক দশকে যে মাধ্যমটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে সেটি হচ্ছে ইলেকট্রনিক বা টিভি মিডিয়া। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ৩০টিরও বেশি টিভি চ্যানেল রয়েছে যেখানে ইতোমধ্যেই কাজ করছে ১০ হাজারের বেশি জনশক্তি। এই চ্যানেলগুলোর বাইরে ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য প্রোডাকশন হাউজগুলোতে কাজ করছে এর চাইতেও বেশি জনশক্তি। ক্যারিয়ার হিসাবে মিডিয়া আয়ের পাশাপাশি খ্যাতিও এনে দিচ্ছে, যার দরুণ এই পেশার দিকে তরুণদের ঝোঁকার প্রবণতা বাড়ছে দিনকে দিন।

এসব কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গতি মিলিয়ে ইউল্যাব বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে আসছে ব্যবহারিক জ্ঞানসম্পর্কে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রথম ক্যাম্পাসভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল পরিচালনার কৃতিত্বের দাবিদার ইউল্যাব। এখানে একদল তরুণ ছাত্রছাত্রীদের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে 'ইউল্যাব টিভি'।

গত ২৭ জুন সাফ্যলের সঙ্গে পথচলার দু’বছর সম্পূর্ণ করলো ইউল্যাব টিভি। ধানমন্ডির নিজস্ব ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর এর সিনিয়র বার্তা সম্পাদক বিপ্লব শহীদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি তুলে ধরেন শিক্ষাজীবনে এমন হাতে কলমে শিক্ষার সুযোগকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে। পরে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,'যে কোনও শিক্ষাই হাতে কলমে হওয়া উচিত। আমরা আমাদের সময়ে হাতে কলমে শেখার সুযোগ পাইনি কিন্তু ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস ইউল্যাব টিভি'র মাধ্যমে এই শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার একটা সুযোগ করে দিচ্ছে । এর ফলে তারা এই প্রতিযোগিতার যুগে চাকরির বাজারে তারা অনেকটাই এগিয়ে থাকবে'।

তবে শুধু চাকরির জন্য শুধু নিজেদের প্রস্তুত করা নয়, প্রযুক্তি নির্ভর এ সংবাদমাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করতে প্রয়োজন শিক্ষার্থীদের গভীর অধ্যাবসায় ও গণমাধ্যমটিকে গভীরভাবে বিশ্লেষণের মানসিকতাও। এর জন্য শিক্ষার্থীদের পরিচর্যাও জরুরি, এমনটি বলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের প্রধান জুড উইলিয়াম হেনিলো। অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের সার্বিক ভাবে সচেতন থাকার বিষয়েও পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে ইউল্যাব টিভি থেকে নির্মিত বিভিন্ন প্রোগ্রাম সম্বলিত একটি ডিভিডির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয় টেলিভিশন চ্যানেলটির মটো Live your Dream।

শুভ যাত্রা

ক্যাম্পাসভিত্তিক এই টেলিভিশন শুরুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় মূলত ২০১১ সালে। টানা দু’বছরের নিরলস প্রচেষ্টার পর সে বছরের ২৭ জুন আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে দেশের প্রথম ও একমাত্র ক্যাম্পাস টেলিভিশন 'ইউল্যাব টিভি'। এর প্রধান লক্ষ্যই ছিল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত জীবনেই কর্মস্থলে কাজ করার পরিবেশ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেওয়া এবং পেশাগত জীবনের উৎকর্ষ সাধন। সে বছর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ‘নিউজউইক ইন্টারন্যাশনাল’ পত্রিকার সাবেক সম্পাদক জনাব টিংকু ভারাদাওয়াজ এই ক্যাম্পাসভিত্তিক টিভির শুভ যাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

পড়তে পড়তে শেখা

এ টিভির পুরো কার্যক্রমটি পরিচালিত হয় শিক্ষার্থীদের দ্বারা। পুরো বিষয়টিকে দেখা হয় ছাত্রছাত্রীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে। ফলে শিক্ষার্থীরা সুযোগ পাচ্ছেন ক্লাসরুম থেকে নেওয়া পাঠের সরাসরি প্রয়োগ শেখার।এরমধ্যে টেলিভিশনে অনুষ্ঠান তৈরি থেকে শুরু করে উপস্থাপনা, সংবাদ তৈরি, সম্পাদনা ও পরিবেশনাও করছেন তারা। সৃজনশীল এ পেশায় কাজ করার সুযোগ শুধু সীমাবদ্ধ নয় সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। টেলিভিশনটি চ্যানেলটিতে কর্মী হিসেবে নিয়োজিত আছেন বিবিএ, ইংরেজিসহ নানা বিভাগের শিক্ষার্থীরাও। তথ্য সংগ্রহ এবং যেকোনও প্রয়োজনে টিভি চ্যানেলটির প্রতিনিধিদের ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করে থাকে, এতে করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা। পড়ালেখার পাশাপাশি হাতে-কলমে বিশ্বমানের সাংবাদিকতা ও বিভিন্ন ধরনের টেলিভিশন অনুষ্ঠান তৈরিতে পারদর্শী করে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন সাংবাদিকতা বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষক।

ইউল্যাবিয়ান সংবাদকর্মী, ইউল্যাবিয়ান দর্শক

বতর্মানে ইউল্যাব টিভির সম্প্রচার সীমাবদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়টির ধানমন্ডিস্থ নিজস্ব ক্যাম্পাসের মধ্যে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার কথা মাথায় রেখে অনুষ্ঠান সম্প্রচার চলে রবিবার বেলা ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত। ১ ঘণ্টার অনুষ্ঠানের পুরোটাই আগে রেকর্ড করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই থাকে ১০ মিনিটের সংবাদ। সপ্তাহজুড়ে ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা প্রাধান্য পায় খবরে। আর সে অনুষ্ঠানই পুনঃপ্রচার হয় বাকি দিনগুলোয়। সংবাদের বাইরে বড় অংশজুড়ে থাকে তথ্যবহুল অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন। যার মধ্যে আছে সংবাদ, সাপ্তাহিক টক শো (ইনসাইড স্টোরি), ডকুমেন্টারি (রোড শো), ম্যাজিক শো (স্পেলবাউন্ড), পাক্ষিক ডকুমেন্টারি (ফ্যাকাল্টি এন্ড স্টুডেন্ট প্রোফাইল), মিউজিক্যাল শো (মিউজিক মোমেন্ট ও মিউজিক রানার)। এছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে 'ক্যাম্পাস ট্যালেন্ট' নামের আলাদা একটি অনুষ্ঠান। তবে শুধু সংবাদকর্মী নয়, সচেতন শ্রোতা তৈরিতেও সম্প্রতি শুরু হয়েছে বিষয়ভিত্তিক সংবাদ ‘নিউজপ্লাস’। আর দুই ক্যাম্পাস জুড়ে বিভিন্ন স্থানে থাকা টেলিভিশনগুলোতে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অতিথিরা পান এসব আয়োজন উপভোগ করার সুযোগ।

 

/এআই/টিএন/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।