রাত ০৫:২৭ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

হাওড়ের ৭ জেলায় কৃষি প্রণোদনা

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বোরো ফসল রোপণে ১০০টি (প্রতি ইউনিয়নে একটি করে) রাইস প্ল্যান্টার এবং ধান কাটা ও সংগ্রহে ২৭৫টি (প্রতি ইউনিয়নে একটি করে) রিপার সরবারহ করতে হাওড়ের সাত জেলায় যন্ত্রের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ, কাটা ও সংগ্রহে ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা প্রণোদনা দেবে সরকার।

সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বুধবার কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে কৃষি সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।

হাওড় অঞ্চলের সাত জেলার মধ্যে রয়েছে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা কিশোরগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও বাহ্মণবাড়িয়া।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, একটি রিপার ৭৫ মিনিটে এক একর জমির ধান ও গম কাটতে সক্ষম। একসঙ্গে ছয় সারিতে ধান ও গম কাটে, তেল খরচ হয় মাত্র এক দশমিক তিন লিটার। আর প্ল্যান্টারে ৯০ মিনিটে এক একর জমির ধান রোপন করা যায়।

যদিও এ অর্থ খুবই কম। কিন্তু প্রণোদনার জন্য আমাদের যতটুকু ছিল তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করছি।

তিনি জানান, হাওড় অঞ্চলের সাত জেলার ৫৭ উপজেলায় ২৭৪টি ইউনিয়নে মোট ৩৭৩টি হাওর আছে। এ অঞ্চলে প্রায় নয় লাখ ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়। ফসল হয় ৩৫ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। প্রতি বছরই হাওড় এলাকায় আকস্কিক বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও আগাম বর্ষার কারণে বোরো চাষে কম-বেশি ক্ষতি হয়ে থাকে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, “দেশের সব জেলায় কম-বেশি বোরো চাষ হলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওড় এলাকা বোরো চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এ সব এলাকায় বোরোর আবাদও বেশি হয়। এ ছাড়া ওই এলাকার নিম্নাঞ্চলে কেবলমাত্র একটি ফসলের চাষ হয়, তা হলো বোরো। বাংলাদেশের মোট চালের ৫৫ শতাংশ উৎপাদিত হয় বোরো মৌসুমে।”

মতিয়া চৌধুরী বলেন, “বরাদ্দ দেওয়া যন্ত্রগুলো উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার (এসএএও) তত্ত্বাবধানে থাকবে। নির্বাচিত কৃষক দলই যন্ত্র সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবেন। যন্ত্রগুলো সরকারি সম্পত্তি হওয়ায় কোনো অবস্থায়ই এগুলো ব্যক্তি মালিকানায় নেওয়া যাবে না।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উপজেলা কৃষি ও পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি যন্ত্র সরবরাহের জন্য কৃষক দল নির্বাচন করবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। স্বচ্ছল কৃষকরা চাইলে কিনে নিয়ে কাজ করতে পারবেন। যন্ত্রগুলো সেনাবহিনী পরিচালিত বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) থেকে নেওয়া হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, “একটি রিপারের দাম এক লাখ ৭০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আর প্ল্যান্টারের দাম তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা।”

হাওর এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর পরিচালিত কৃষক দলগুলোকে (আইপিএম, আইসিএম, সিআইজি ক্লাব) এ যন্ত্রগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

মন্ত্রী বলেন, “এ অঞ্চলের বোরো ফসল নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতে যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে চাষের সময় কমিয়ে আনা এবং ফসল কর্তন দ্রুত করে কৃষকের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে রাইস প্ল্যান্টার ও রিপার যন্ত্র সরবরাহের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার এ জন্য ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকার একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রস্তাবিত এ অর্থ ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘কৃষি পুনর্বাসন সহায়ক’ খাত থেকে সংস্থান করা হচ্ছে।”

প্রস্তাবটি ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে হলেও আগামী বোরো মৌসুমকে উদ্দেশ্য কেরে গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।