বিকাল ০৫:২৯ ; মঙ্গলবার ;  ২১ মে, ২০১৯  

হেফাজতে দ্বন্দ্ব জিইয়ে রেখেছেন কওমি আলেমরা!

প্রকাশিত:

চৌধুরী আকবর হোসেন॥

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর কমিটিতে বিরোধ দেখা দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ভুলে এক কাতারে আসলেও হেফাজতে এক হতে পারছেন না কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক আলেমরা।

সোমবার রাজধানীর জামি'আ মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করে ঢাকা মহানগর হেফাজত। দীর্ঘদিন পর রমজানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন হলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা। যদিও গত ২৫ জুন জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে তাদের অনেকেই যোগ দিয়েছিলেন। এমনকি জামায়াতের ইফতারে যোগ দেওয়া নেতাদের কেউ কেউ ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডবের মামলার আসামি হিসেবে পলাতকও রয়েছেন।

অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে হেফাজতের আত্মপ্রকাশ ঘটলেও সংগঠনটির বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় নেতা ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন। আর জামায়াতে ইসলামীর ইফতারে যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে রাজনীতির কথা উল্লেখ করেছেন হেফাজতভুক্ত রাজনৈতিক দলের নেতারা। এমনকি ২০ দলীয় জোটের বাইরের দলের নেতাদেরও দেখা গিয়েছিল জামায়াতের ইফতারে। যদিও তারা রাজনীতির বাইরে ইসলামের জন্য হেফাজতে ঐক্যবদ্ধ হলে দাবি করে আসছেন। কিন্তু হেফাজতে নিজ দলের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে অনেকের মধ্যে যে বিরোধ দেখা দিয়েছে; তা তাদের ওই ইফতার মাহফিলে যোগ না দেওয়ার মধ্যেই দৃশ্যমান হয়‌‌‌েছে।

সোমবারের ইফতারে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরের আহবায়ক নূর হোছাইন কাসেমী, সদস্য সচিব জুনায়েদ আল হাবীব, যুগ্ম আহবায়ক মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, যুগ্ম সদস্য সচিব মোস্তফা আজাদ, অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব, মাওলানা আহমদ আব্দুল কাদের, বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মুফতি নাসির উদ্দিন খান, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক প্রমুখ।

এদের মধ্যে নূর হোছাইন কাসেমী, সদস্য সচিব জুনায়েদ আল হাবীব, যুগ্ম আহবায়ক মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, যুগ্ম সদস্য সচিব মোস্তফা আজাদ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা। গত বছর এপ্রিলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মাওলানা আব্দুর রব ইসুফী, একই দলের তফাজ্জল হক আজিজ, মোহাম্মদুল্লাহ জামি, ইসলামী ঐক্যজোটের থেকে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মুফতি ফজলুল করিম কাসেমী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামে যোগ দেন। জমিয়তের কার্যক্রম পরিচালিত হয় বারিধারার এই মাদ্রাসা থেকেই। অন্যদিকে নূর হোছাইন কাসেমী বারিধারা মাদ্রাসায় থাকেন বলে লালবাগ থেকে ঢাকার হেফাজতের কার্যালয় স্থানান্তর করা হয়। দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয় আধিপত্য নিয়ে । লালবাগপন্থী ইসলামী ঐক্যজোটের নেতারা চান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে, অপরদিকে বারিধারা মাদ্রসাপন্থী জমিয়ত নেতারা চান নিজেদের হাতে রাখতে মূল কর্তৃত্ব। ফলে বারিধারায় হেফাজতের অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকতে দেখা গেছে লালবাগপন্থীদের।

ইসলাম ধর্মকে কেন্দ্র করে অরাজনৈতিক হেফাজতের নেতারা এক না হতে না পারলেও একযোগে অংশ নিয়েছিলেন জামায়াতের ইফতারে। হাস্যোজ্জ্বলভাবে হাত মিলিয়েছেন জামায়াত নেতাদের সঙ্গে। পাশাপাশি বসে একে-অপরের খোঁজও নিয়েছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক হেফাজত নেতা জানিয়েছেন, হেফাজতের ঢাকা মহানগর শাখার কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে। তবে কর্মসূচি থাকলে তা কেটে যাবে দ্রুত।

মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লাহর হেফাজত‌‌ের যুগ্ম মহাসচিব জামায়াতের ইফতারে তাকে দেখা গেলেও উপস্থিত ছিলেন না সোমবার হেফাজতের ইফতারে। এমনকি তার দলের হেফাজত নেতাদের কাউকে দেখা যায়নি।

২০ দলীয় জোটের শরিক না হলেও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতারা গিয়েছিলেন জামায়াতের ইফতারে। তবে আসেননি হেফাজতের ইফতারে। যদিও হেফাজত নেতারা বলছেন, দলটির মহাসচিব ও হেফাজত নেতা মাওলানা জাফরুল্লাহ খান অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগরের হেফাজতের সদস্য সচিব জুনায়েদ আল হাবীব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হেফাজতে কোনও দ্বন্দ্ব নেই। যানজটের কারণে বারিধারার অনেকে আসেননি। এ ছ‌‌‌াড়াও অনেকে ইফতার সেরে তারাবির নামাজ ধরতে পারবেন না বলে আসেননি বলে জানিয়েছেন।

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

 

/সিএ/এসএম/এফএ/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।