দুপুর ০১:২১ ; রবিবার ;  ২১ অক্টোবর, ২০১৮  

চুয়াডাঙ্গায় জাপানি তরমুজ!

প্রকাশিত:

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি।।

চুয়াডাঙ্গার মাটিতে তরমুজের চাষ হবে তা হয়তো বছর পাঁচেক আগেও ভাবেননি চুয়াডাঙ্গার কৃষকরা। তবে এখন চুয়ারডাঙ্গার মাটিতে শুধু তরমুজ চাষ নয়, কীভাবে বেশি লাভ করা যায় তা নিয়ে ভাবছে এখানকার কৃষকরা। তাইতো দাম বেশি পাওয়ার আশায় রমজানের শুরুতে তরমুজ বাজারে আনার লক্ষ্য নিয়ে চুয়াডাঙ্গার কৃষকরা জাপানের ব্লাক বেরি জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। এতে এলাকার কৃষকরা সফল হয়েছেন।

আশেপাশের এলাকা ছাড়ারও ঢাকায় এই জাপানি তরমুজ পাঠিয়েছেন সদর উপজেলার সুবদিয়া গ্রামের কৃষক সানোয়ার হোসেন। আরও অনেক কৃষক ১৫ রোজার মধ্যেই ব্লাক বেরি তরমুজ রাজধানী ও স্থানীয় বাজারে পাঠাতে পারবেন বলেও আশা করছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকরা তরমুজ চাষ করে লাভবান হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৩৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। মাত্র তিন বছর আগে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামে প্রথম এই তরমুজের চাষ হয়। প্রথম বছরই আসে সফলতা। যারা ঝুঁকি নিয়ে এই তরমুজের চাষ করেছিলেন তাদের প্রায় সবাই লাভবান হয়েছে। তারপর থেকেই শুরু হয় হাইব্রিড জাতের ‘অসময়ের’ এই তরমুজ চাষ।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, রোজার মাসে বাজারে বিক্রির জন্য লক্ষ্য নিয়ে এই তরমুজের চাষ করা হয়। জাপানের ব্লাক বেরি জাতের এই তরমুজটি এই সময়ের চাষের জন্য উপযোগী। এছাড়া তাইওয়ানেরও বীজ থেকে তরমুজ চাষ হয়। সেই তরমুজ হয় আরেকটু দেরিতে। এজন্য কৃষক এবার ঝুঁকেছেন জাপানের ব্লাক বেরি চাষে।

তিন বছর আগে চুয়াডাঙ্গার গাড়াবাড়িয়া গ্রামে কৃষক আবুল কালাম আজাদ প্রথম এই তরমুজের চাষ করেন। তার সফলতা দেখে পরের বছর এই তরমুজ চাষ করেন গাড়াবাড়িয়া গ্রামের রতন আলী, লুৎফর রহমান, আজমত আলী, আব্দুস সাত্তার, সুবদিয়া গ্রামের ছানোয়ার হোসেন ও আজিজুল হকসহ আরও অনেকে।

কৃষকরা জানায়, এই তরমুজ চাষে বিঘা প্রতি লাভ হয় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। খরচ হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘায় ৮০ থেকে ১০০ মণ তরমুজ উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। মাত্র ৬০ দিনেই উৎপাদন সম্পন্ন হয়। যা অন্যান্য ফসলের তুলনায় অনেক কম সময় লাগে ।

গাড়াবাড়িয়া গ্রামের তরমুজ চাষি ফরজ আলী জানান, নতুন জাতের তরমুজ প্রতিটি এক থেকে চার কেজি পর্যন্ত ওজনের হয়। দেশীয় তরমুজ পাঁচ থেকে ১০ কেজি হলেও দেশীয় জাতের তুলনায় নতুন জাতের এই তরমুজ খেতে সুস্বাদু ও মিষ্টি। এবারের রোজার বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হতে পারে ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। 

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নির্মল কুমার দে জানান, চুয়াডাঙ্গার গাড়াবাড়িয়া ও সুবদিয়া গ্রামের কৃষকরা বরাবরের মতো নতুন ফসল ও ফলমূলের আবাদ করে থাকে। এই এলাকার কৃষকরা হাইব্রিড জাতের গ্রীষ্মকালীন তরমুজের চাষ করে এর আগেও লাভবান হয়েছে। এবারও তারা সফল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/এমডিপি/এসটি/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।