ভোর ০৬:৪৯ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

আমদানি নির্ভরতায় মোটর সাইকেল শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

দেশে ইতিমধ্যে পাঁচটি মোটরসাইকেল কারখানা (ওয়ালটন, রানার, যমুনা, রোড মাস্টার ও গ্রামীন মোটরস) রয়েছে। এ ছাড়া, আরও ৩ থেকে ৪টি বৃহৎ কারখানা স্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

এর পশ্চাৎপদ শিল্প (ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ) খাতে দেশে ৭ থেকে ৮টি যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা চালু রয়েছে। এ সকল কারখানায় মোটরসাইলের সিট, সিট কভার, চেইন, স্পকেট, হেডলাইট, ব্যাকলাইট ও সাইড কভারসহ যাবতীয় প্লাস্টিক পণ্য, ফিল্টার, লুকিং গ্লাস, টায়ার ও টিউব ইত্যাদি তৈরি হয় হচ্ছে। কারখানাগুলো মূলত ঢাকা, ফরিদপুর, দিনাজপুর ও বগুড়া জেলা কেন্দ্রিক।

মোটরসাইকেল এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমএমইএবি) বলছে, দেশে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতে আমদানি বিকল্প মোটারসাইকেলের পণ্য ও সেবার সুযোগ রয়েছে। তথাপি, সিকেডি আমদানীকারকগণ তা ব্যবহার না করে, ওই সকল পণ্য আমদানি করছে।

এমএমইএবি'র সভাপতি হাফিজুর রহমান খান বলেন, “সরকারের চাপের মুখে বার বার সময় নিয়েও দেশে কারখানা স্থাপন করতে পারেনি মোটরসাইকেল আমদানিকারকরা। এতে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা চলে যাচ্ছে বিদেশে।”

তিনি আরও বলেন, আমদানি নির্ভরতায় অনেক উদ্যোক্তা বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়েছেন। লোকসানের ভয়ে কেউ কেউ বাড়াচ্ছেন না বিনিয়োগ। ফলে একদিকে দেশিয় শিল্পের বিকাশ ঘটছে না, অপরদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। এভাবে চললে দেশিয় মোটরসাইকেল শিল্প আলোর মুখ দেখবে না।”

চীন, ভারত সহ উন্নয়নশীল দেশে এ ধরনের সিবিইউ বা সিকেডি মোটরসাইকেল আমদানির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বিদ্যমান। থাইল্যান্ডে এর হার ১৩০ শতাংশ।

এ বিষয়ে হাফিজুর রহমান খান বলেন, “স্থানীয় শিল্প থাকলে অনুন্নত দেশ ব্যতীত বিশ্বের কোথাও আর সিকেডি আমদানি করা হয় না। আন্তর্জাতিক নীতি মেনে চলতি বাজেটে এ খাতের পণ্যের শুল্ক বৃদ্ধিসহ ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের নীতিমালা অনুসরণের বিষয়টি অত্যন্ত সময়োপযোগী।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী ৫ বছরের বাজারের মোট চাহিদা পুরণে সক্ষম পেইন্টিং কারখানা দেশেই স্থাপিত হয়েছে।”দেশিয় কারখানার পেইন্টিং সেবাসহ অন্যান্য বহুবিধ যন্ত্রাংশ ব্যবহারে বাড়াতে কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

রোড মাস্টার মোটরস লিমিটেডের ব্যবস্থপনা পরিচালক মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, “যে সব পণ্য দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে সেগুলো আমদানি নিষিদ্ধ করা হোক। আমদানিকে নিরুৎসাহিত না করলে বিনিয়োগ হবে না। সৃষ্টি হবে না কর্মসংস্থান। কেননা, ঝুঁকিতে কেউ-ই বিনিয়োগ করতে চায় না।”

বিগত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান অনুসারে, দেশের মোটরসাইকেলের বাজারের মাত্র ২৫ শতাংশ স্থানীয় উৎপাদনকারীদের আয়ত্ত্বে রয়েছে। আর দেশে গড়ে মোটর সাইকেলের বাজার ২ লাখ ৫০ থেকে ২ লাখ ৭৫ হাজার।

/এসআই/এফএইচ/‌‌‌

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।