দুপুর ০২:২৫ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৭ জুন, ২০১৯  

চেকমেট!

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

এহতেশাম ইমাম।।

বছরের প্রথমদিনে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন তাবাসসুম। সন্ধ্যায় অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠান। কিন্তু বিকাল থেকে কোনওভাবেই ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না ফটোগ্রাফারকে। শেষমেশ এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় ‘ওয়েডিং সলিউশন চেকমেট’কে ফোন দিয়ে ব্যবস্থা করা হয় ফটোগ্রাফারের। এ অবস্থায় ফোন পাওয়ার ৪০ মিনিটের মাথায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পুরো অনুষ্ঠানের দায়িত্ব বুঝে নিল চেকমেট টিম। তবে পুরো ঘটনা এখানেই শেষ নয়। বিয়ের তিনদিনের মাথায় দেশ ছাড়বেন তাবাসসুম দম্পতি। ফলে ছবি পৌঁছাতে হবে যত দ্রুত সম্ভব। বিয়ের ছবি পেতে যেখানে সময় লাগে তিন থেকে চার সপ্তাহ, সেখানে তিনদিনের মাথায় ছবি পেয়েছেন তাবাসসুম দম্পত্তি। আর এই কৃতিত্বের দাবিদার চেকমেট টিম।

দেশে বিভিন্ন সেবা খাতে কাস্টমার সার্ভিস ধারণাটি বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে চলে এসেছে অনেক আগে থেকে। তবে বিষয়টি নতুন করে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রিকে শেখানোর দায়িত্বটি নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন সম্পূর্ণ তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত ওয়েডিং ফটোগ্রাফি সলিউশন ‘চেকমেট’। বয়সে নবীনে দুই তরুণ উদ্যোক্তা এম আমিনুর রহমান ও সাদিয়া আফরিন অরণির হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত চেকমেটের লক্ষ্য একটি, ওয়েডিং ফটোগ্রাফিতে ভিন্নধর্মী ছবির পাশাপাশি গ্রাহক সেবায় দেশে নতুন একটি দিগন্তের সৃষ্টি ।

পথচলার শুরু

২০১১ তে নর্থ সাউথ থেকে বিবিএতে স্নাতক শেষ করার আগে থেকেই ভিন্ন কিছু করার পরিকল্পনা ছিল আমিন আর অরণির। শখের বসে ছবি তুললেও সম্বল বলতে কেবল আমিনের ডিএসএলআর ক্যামেরা আর অরণির বন্ধুমহলে পরিচিতি। তবে শুরু থেকেই বিশ্বাস রেখেছেন নিজেদের কাজ আর নিজস্বতার ওপর। যে কারণে পথ চলার শুরুতেই নিবন্ধন করেছেন চেকমেটের। কারণ হিসেবে আমিন বলেন, আমাদের দেশে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠা কঠিন। এছাড়া, নামে-বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অফিস ‍খুলে কাজ করে। আবার প্রয়োজন ফুরোলে চম্পট। এ কারণে শুরু থেকে আমরা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করে স্থায়ীভাবে অফিস নিয়ে কাজ শুরু করি। এর ফলে দীর্ঘ চারবছরে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে জনপ্রিয়তাও।

শুরু থেকেই ভিন্নতা

মূলযাত্রা ওয়েডিং ফটোগ্রাফি দিয়ে হলেও, পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে পথচলার। যে কারণে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি-কেন্দ্রিক নামকরণ না করে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়েছে ‘চেকমেট’। কারণ, চেকমেট টিমের বিশ্বাস, এই ইন্ড্রাস্ট্রিতে টিকে থাকতে প্রয়োজন নতুনত্ব আর ভিন্নতা। যে কারণে তারা শুধু ছবি তোলা বা ডকুমেন্টেশনের মধ্যে নিজেদের কাজ সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন ধরনের নতুনত্বে নাম লিখিয়েছেন। পথচলার এ চার বছরে চেকমেট ওয়েডিং ফটোগ্রাফি থেকে শুরু করে ইভেন্ট্স ফটোগ্রাফি, ইভেন্ট্স ভিডিওগ্রাফি, কোম্পানি প্রোফাইলিং, কনটেন্ট মার্কেটিং থেকে বিভিন্ন অঙ্গনে বিস্তার করেছে নিজেদের কার্যক্রম। তবে, চেকমেটের বিশেষত্ব হচ্ছে, তাদের কাজগুলোর অনেকগুলোই বাংলাদেশে নতুন। তবে সে স্বাক্ষর ইতোমধ্যে নিশ্চিত করতে সমর্থ হয়েছে চেকমেট। নিজেদের ক্লায়েন্ট খাতায় নাম লিখিয়েছেন মাইক্রোসফ্‌ট থেকে শুরু করে ব্রিটিশ কাউন্সিলসহ বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির রেগুলার ক্লায়েন্ট হিসেবে।

বিয়ে নিয়ে যতকাণ্ড

পথচলার এ চার বছরে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন-ভিন্ন অভিজ্ঞতার সঞ্চার হয়েছে চেকমেট টিমের। এমন বেশকয়েকটি  অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির এমডি সাদিয়া আফরিন। তিনি বলেন, ‘বন্ধুর কথায় দূর সম্পর্কের এক ফটোগ্রাফারকে নিজের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের ছবি তোলার দায়িত্ব দিয়েছিলেন এক  আত্মীয়। সেই চিত্রগ্রাহক ছবি তুললেও পরবর্তী ছয়মাসেও আলোর মুখ দেখেনি ছবিগুলো। শেষপর্যন্ত খোঁজ নিয়ে সেই ফটোগ্রাফারের বাসায় হানা দিয়ে তার কম্পিউটার থেকে ছবিগুলো উদ্ধার করা হয়।

অনেকে  বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এ সব কারণে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রির জন্য লজ্জাজনক। আর এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ছবি তোলার পাশাপাশি ক্লায়েন্টদের সেবা দেওয়ার বিষয়টি সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকে চেকমেট।

এ বিষয়ে অরণি বলেন, ‘আমরাশুরু থেকে বিশ্বাস করতাম ফটোগ্রাফি সেক্টরে নতুনত্ব যোগ করব। তাই আমরা বেশকিছু নতুন সেবা যোগ করি। যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্য করার মতো হচ্ছে ‘হোম মেহেদি সার্ভিস’। বিশেষভাবে পারদর্শী এ শিল্পীরা নতুন বউ-এর হাতে লাগিয়ে দেন মেহেদি। যা অন্যকোনও ওয়েডিং সলিউশন গ্রুপ এখনও করে উঠতে পারেনি।

এ সময় প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রধান আমীন বলেন, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ছবি তোলার অভিজ্ঞতার কথা। এ সময় তিনি ছবিতোলাকে পেশা হিসেবে নিতে হলে সবার আগে প্রয়োজন সময়ানুবর্তিতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা। তিনি বলেন,  ‘বিয়ের ছবি তুলতে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীরা গাড়িতে হামলা করেছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি সামলে ছবি তোলা মিস করিনি। এমন হয়েছে ব্যান্ডেজ করা পা নিয়ে ছবি তুলে নিয়ে এসেছি। কারণ তাদের কথা দিয়েছি। এ সবের মূলে ছিল একটি বিষয়। আর তা হচ্ছে কাজের প্রতি ভালোবাসা।’

বিদেশের মাটিতে দেশের ফটোগ্রাফার

গত চার বছরে কমবেশি চারহাজার ক্লায়েন্টের সেবা নিশ্চিত করেছে চেকমেট। আর তাদের প্রতিটি কাজ বিশেষ ভাবে সংরক্ষণ করা হয় তাদের নিজস্ব আর্কাইভে। সেবাখাতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে চেকমেটের। এরমধ্যে কলকাতা ও মালয়েশিয়া গিয়েও বিয়ের ছবি তুলে ঘুরে এসেছে চেকমেট টিম। এ সেবা দেশের মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দিতে ঈদের পরপরই  খুলনা ও চট্টগ্রামে খোলা হচ্ছে চেকমেট অফিস।

বিশ্বাস রাখুন নিজের ওপর

শুরুর পথচলাটা কঠিন হলেও এরই মধ্যে নিজেদের একটি অবস্থানে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে চেকমেট। এ বিষয়ে নিজেদের একান্ত বিশ্বাসের জায়গাটি সম্পর্কে এই উদ্যোক্তা দম্পতি সমস্বরে বলেন, সামনে এগোতে না পারা মানে স্থির থাকা নয়, পিছিয়ে পড়া। আর সমবয়সী তরুণদের প্রতি তাদের একটি আহ্বান ‘উদ্যোগ গ্রহণ করা যায়, কিন্তু তা ধরে রাখা কঠিন।তাই নিজেদের ব্যবসায়ী না ভেবে উদ্যোক্তা ভাবুন আর লেগে থাকুন নিজের উদ্যোগকে স্বার্থক রূপ দিতে।

দেখে নিতে পারেন চেকমেটের কাজের ধরন,

www.youtube.com/watch?v=4GA3tb_bXI0
www.youtube.com/watch?v=QoSmKN63Fgs

এছাড়া ভিজিট করতে পারেন,

http://www.checkmate.com.bd/

ছবি: চেকমেট

/এমএনএইচ/এফএএন/

 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।