রাত ১০:২০ ; রবিবার ;  ২০ অক্টোবর, ২০১৯  

দ্বন্দ্ব ভুলে জামায়াতের ইফতারে কওমি অালেমরা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

সালমান তারেক শাকিল ও চৌধুরী অাকবর হোসেন।।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে প্রায় ৫০ বছর অাগের দ্বন্দ্ব ভুলে এক কাতারে অাসলেন কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক অালেমরা। বর্তমানে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন এমন অসংখ্য নেতা জামায়াতের ডাকা ইফতারে অংশ নিয়েছেন হাস্যোজ্জ্বল ভূমিকায়। হাত নেড়ে মোসাফা করেছেন জামায়াত নেতাদের সঙ্গে। পাশাপাশি বসে একে-অপরের খোঁজও নিলেন । এ চিত্র বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত জামায়াত আয়োজিত ইফতার মাহফিলের।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইফতার শুরুর দুই মিনিটের মধ্যে অাসলেও কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা অাসলেন অনেকটা অাগেই। অায়োজক দলের ভারপ্রাপ্ত অামির মকবুল অাহমাদ ইফতারে না এলেও দলের প্রধান প্রতিনিধিত্ব করছিলেন নায়েবে অামির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনিও এসেছেন ইফতারের খানিকটা অাগে।

মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লাহর সঙ্গে শামীম সাঈদী

তবে সবচেয়ে অাগ্রহের সঙ্গে যাদের দেখা গেছে তারা হলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নায়েব অামির মাওলানা অাবদুর রব ইউসূফী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা রেজাউল করিম, মাওলানা সহ-সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান, দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা রশিদ অাহমদ এবং যুব জমিয়ত ঢাকা মহানগরী যুগ্ম অাহ্বায়ক মাওলানা শফিকুর রহমান। পাশাপাশি অাইম্মাহ পরিষদের অাহ্বায়ক, ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মহিউদ্দীন রাব্বানীও প্রায় একই সময়ে ইফতারে অংশ নেন।

জমিয়ত প্রসঙ্গে জানা গেছে, এই দলটি শুরু থেকে জামায়াতের বিরোধিতা করেছে এবং সবচেয়ে অগ্রগণ্য সমালোচনাকারীও এ দলটি। সাড়ম্বরে জামায়াতের ইফতারে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাওলানা রশিদ অাহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দাওয়াত পেয়েছেন এবং ২০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে তারা এসেছেন ইফতারে।

মঞ্চে উপবিষ্ট জামায়ানেতার সঙ্গে মাওলানা নেজামী ও মাওলানা ইউসূফী

শুধু জমিয়ত নয়, ইসলামী ঐক্যজোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মুফতি ফজলুল হক অামিনী জীবিতকালীন তুমুল জামায়াতবিরোধী করলেও দলটির বর্তমান কমিটির চেয়ারম্যান মাওলানা অাবদুল লতিফ নেজামী ও মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ ইফতারে অংশ নেন। মাওলানা নেজামী মঞ্চে স্থান পেলেও মুফতি ফয়জুল্লাহ ছিলেন দর্শক সাড়িতে।

ইফতারে অংশগ্রহণ করার বিষয়ে মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম। তীব্র জ্যামের কারণে এখানেই অাসতে হল। হোটেলে নামাজ পড়লাম। পরে চেয়ারম্যান সাহেব বললেন ইফতারে অংশ নিতে। তাই অাসলাম।

ইফতারে খেলাফত অান্দোলন ও জমিয়তের নেতারা

এসময় ইসলামী ঐক্যজোটের অারও তিনজন নেতাকে ইফতারে অংশ নিতে দেখা যায়।

২০ দলীয় জোটের শরিক না হলেও বাংলাদেশ খেলাফত অান্দোলনের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক। দলের জামায়াতপন্থী মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিত থাকলেও দলের অন্যতম নেতা মাওলানা ফখরুল ইসলামসহ কয়েকজন নেতা ইফতারে অংশ নেন।

ইফতারের কিছু সময় অাগে মঞ্চে অাসেন কওমিপন্থী দল খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক অাহমদ অাবদুল কাদের। তিনি যুবশিবির-ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

রাজনীতিকদের বাইরে সাধারণ অালেমদেরও অংশগ্রহণ ছিল জামায়াতের ইফতারে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন, মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, মাওলানা অাবু তাহের জিহাদী, তৌহিদি জনতা পরিষদের অাহ্বায়ক মাওলানা অাজিজুল রহমান।

/এএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।