বিকাল ০৫:০৩ ; মঙ্গলবার ;  ১৫ অক্টোবর, ২০১৯  

জন্মের আগে ফেলে যাওয়া স্মৃতির খোঁজে || কবির হুমায়ূন || শেষ পর্ব

প্রকাশিত:

পূর্বপ্রকাশের পর

ভ্রমণক্লান্ত ভোর মানুষের মধ্যে এক ধরনের স্থিরতা নির্মাণ করে দেয়। পহেলা বৈশাখ ভোরে কিংবা ভোরেরও আগে আমাদের স্টিমার সদরঘাট টার্মিনালে পৌঁছালে মানুষের পায়ের শব্দ যতোটা পাই; কণ্ঠের শব্দ ততোটা পাই না। মোবাইলের পর্দায় চোখ বুলিয়ে দেখি ৫ টা। রেজা আগেই বলে রেখেছিলেন ৬ টার আগে কারো স্টিমার থেকে নামার প্রয়োজন নেই। জেমকন  অতিথিদের নেওয়ার জন্য গাড়ি পাঠাবে। সে গাড়িও আসবে ৬ টায়। হামীম উঠে পড়লেন। ওয়াশ রুমে যাওয়া প্রয়োজন। বার কয় ভিতর-বাহির করলেন। মানে সিরিয়াল পাওয়া যাচ্ছে না। এরই মধ্যে রেজার কণ্ঠ শোনা গেলো। কারো উঠার প্রয়োজন নেই। আরো একঘণ্টা ঘুমাতে পারো। যথা সময়ে আমি ডাকবো। ইত্যাদি। চোখ বন্ধ করে রাখি। সূর্য ওঠার আগের ভোরের আলোয় যে মায়া জড়িয়ে থাকে; তারে আমি মা বলে ডাকি। কিন্তু ঘুম জড়ানো চেহারা নিয়ে বাইরে যেতে ইচ্ছা করে না। চোখ বন্ধ রেখেই একটা হিসেব মিলাতে থাকি। ঢাকায়তো ফেরা গেলো; এবার প্রত্যেকে প্রত্যেকের বাসায় কিভাবে ফিরবে? পহেলা বৈশাখের ভোর তো আর অন্যদিনের ভোর না। শহরের প্রায় সব মানুষ পহেলা বৈশাখের ভোরে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন। ঢাকা শহরে হাঁটারও উপায় থাকে না। আমাদের বহন করবে যে গাড়ি; তা সঠিকভাবে পার হতে পারবে তো! রেজা আবার রবিশংকর বল এবং জহর সেনমজুমদারকে নিয়ে যাবেন সাভার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাস্তার কথা ভাবতে ভাবতেই কখন ৬ টা বেজে যায়। রেজার কণ্ঠ ফের শোনা যায়। সবাই বেরিয়ে আসো...।
টার্মিনালের বাইরে জেমকনের গাড়ি হাজির। আমরা একে একে গাড়িতে উঠলে; চালক উল্টোপথে চলতে থাকেন। পাটুয়াটুলি হয়ে দ্রুতই সদরঘাট এলাকা পার হতে সক্ষম হন। আমাদের বহন করা গাড়ি বংশাল রোডে পড়লে চালক বলেন, স্যার আপনাদের জন্য বকুল কুড়িয়ে এনেছি। এই নিন। মনটা প্রসণ্নতায় ভরে উঠে। পহেলা বৈশাখের ভোরে চালকের কুড়িয়ে আনা বকুল ফুল আমার মন ফুরফুরে করে তোলে। যা ভেবেছিলাম; তার কিছুই হয়নি। রাস্তায় রাস্তায় আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ব্যারিকেড গড়ে তুলেছে। যেখান সেখান দিয়ে ইচ্ছা-খুশি যাওয়া যাবে না। পহেলা বৈশাখে রমনা-শাহবাগ-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা লাখ লাখ মানুষের পদচারণায় মেতে ওঠে। ফলে অধিকাংশ রাস্তা জান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সকলের হেঁটে ওই এলাকাগুলোতে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের চালক আগে থেকেই সে বিষয়ে শতর্ক ছিলেন। ফলে লোকারণ্য এড়িয়ে ভিন্ন পথে আমাদের নিয়ে গাড়ি চলে আসে মগবাজার। গল্পকার পারভেজ হোসেনকে সেখানে নামিয়ে দিয়ে ময়ময়নসিংহ রোড ধরে গাড়ি চলে আসে রাসেল স্কয়ারে। সেখানে নেমে যান রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী। আরেকটু এগিয়ে মীরপুর রোডে রাপা প্লাজার সামনে নেমে পড়ি আমি। আড়ংয়ে নামলেন গল্পকার শাহনাজ নাসরিন। তারপর নামলেন কথাশিল্পী হামীম কামরুল হক। বাকীদের নিয়ে রেজা আর সোহাগ চলে যান জাহাঙ্গীরনগর। যে সময়টায় আমরা ঢাকা শহরে প্রবেশ করি, তখনো রাস্তাগুলো যথেষ্ট ফাঁকা থাকায় এতো দ্রুত পার হওয়া সম্ভব হয়েছে। আমি নেমে যাওয়ার সময় জহর সেনমজুমদার বারবার বলছিলেন, তুমি কিন্তু দ্রুত চলে এসো। সায় দিয়ে নেমে এসে মনে মনে বলি, দ্রুত না; আজ আর দেখা হবে না। কারণ; কিছু পরে ঢাকা শহরে চলাচল করা প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। পহেলা বৈশাখের এই দিনটায় মানুষ প্রাণখুলে এতো আনন্দে মেতে উঠে; যা বিশ্বে বিরল। বাংলাদেশে যে চারটি বৃহৎ উৎসব হয় তার মধ্যে দিনে দিনে আকারে-আয়তনে-কলেবরে-অংশগ্রহণে-আয়োজনে প্রধান হয়ে উঠছে পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখে ধর্মীয় বিধি-নিষেধ না থাকায় সর্বধর্মের-সর্বশ্রেণীর মানুষ অংশগ্রহণ করে। শুধু রাজধানী নয়, বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে এই উৎসব এতো বিপুলভাবে ছড়িয়ে পড়ছে; বলাই যায়; বাঙালির প্রধান উৎসব এখন পহেলা বৈশাখ। 

দুই বন্ধুতে

দুই.
বাসায় ফিরে ফোন বন্ধ করে দেই। সন্ধ্যায় সামান্য সময়ের জন্য ফোন অন করলে কল এলার্টে দেখি কবি জহর সেনমজুমদার, শামীম রেজা এবং জাহিদ সোহাগ ফোন করেছেন। বুঝতে বাকি থাকে না; ফের ডাক পড়েছে। কিন্তু জনসমুদ্র ডিঙ্গিয়ে আমার কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না। কবি রফিক আজাদের সঙ্গে বেশ কিছুদিন দেখা নেই। অনেকবার ফোন করেছেন। ধরিনি। তিনি অভিমান করে আছেন। বরং তার সঙ্গে সন্ধ্যাটা কাটালে অভিমান দূর হয়। তাই করি। পরদিন ভোরে জাহাঙ্গীরনগরের উদ্দেশে রওয়ানা করে শামীম রেজাকে টেক্সমেসেজে জানিয়ে রাখি। রেজা সঙ্গে সঙ্গে ফোন করেই বকাবকি। তুই ফোন বন্ধ করে রাখিস ক্যান! আমি যে ফোন কেনো বন্ধ করি, কে জানে!
জাহাঙ্গীরনগরের টিএসসির রেস্ট হাউসে যেখানে জহর সেনমজুমদার এবং রবিশংকর বলের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে; পৌঁছালেই উভয়ের কণ্ঠে অনুযোগ বাজে। কবির তুমি আমাদের ফাঁকি দিয়েছো। কাগা (কবি জহর সেনমজুমদার) বললেন, জানো তোমাকে কতোবার ফোন করেছি! কিন্তু তোমার ফোন বন্ধ। অসাধারণ সময় কাটালাম এই ক্যাম্পাসে। তুমি মিস করলে। পরে জাহিদ সোহাগ জানান, রবিশংকর বল ও জহর সেনমজুমদারকে নিয়ে সরাসরি তারা হাজির হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। রেজা এই বিভাগের শিক্ষক। সেখানে এসেছিলেন কথাশিল্পী দেবেশ রায় এবং সালমা বাণী। বাংলা বিভাগে তাদের এই পহেলা বৈশাখের ভোরে বরণ করে নেওয়া হয় পান্তা-ইলিশ পরিবেশন করে। তার একটু পরে সকলে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ট্রেতে সাজানো বিশাল জরমুজ কেটে পহেলা বৈশাখ বরণের উদ্বোধন করেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় দেবেশ রায়। তরমুজ কেটে বর্ষবরণ করা যায় এই ধারণায় মুগ্ধ হন ভারতের তিন অতিথি দেবেশ রায়, রবিশংকর বল এবং জহর সেনমজুমদার। টিএসসির রেস্ট হাউসেও বিশ্রাম নেওয়া হয় না। দুপুরে কবি বিজয় আহমেদ গিয়ে হাজির। ফের শুরু হয় কবিতা আড্ডা। এক ফাঁকে রেজা বলে দেন; রবিশংকর বল এবং জহর সেনমজুমদারকে যেন সাভারে বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঘুরিয়ে আনা হয়। জাহিদ এবং বিজয় সে দায়িত্ব করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। গাড়িতে উঠেও তাদের ফেরৎ আসতে হয়। রাস্তায় এতোটাই জ্যাম; স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত যাওয়া অসম্ভব। অতৃপ্তি নিয়ে ফিরে আসা ছাড়া উপায়ও ছিলো না। পহেলা বৈশাখের উদ্দীপনা মূলত পুরো দেশের গতিকে একদিনের জন্য বন্ধ করে দেয়। 
টিএসসির রেস্ট হাউসে রেজা এসেই বলেন, তৈরি হয়ে নিতে। সময় অল্প। ওইদিনই অতিথিরা ফিরে যাবেন কলকাতায়। সুতরাং সময় নষ্ট না করে আরও যেসব আয়োজন রয়েছে শেষ করতে হবে। একটা বিষয় চোখে পড়লো। রবিশংকর বল এবং জহর সেনমজুমদার উভয়ে যথেষ্ট ক্লান্ত বোধ করছেন। এর প্রধান কারণ, প্রচণ্ড গরম আবহাওয়া। বাংলা বিভাগে জীবনানন্দের উপর বক্তৃতা করতে হবে জহর সেনমজুমদারকে। তিনি আমার হাত ধরে বললেন, কাগা শরীরটা ভালো নেই। বক্তৃতা করতে পারবো তো! প্রয়োজনীয় উৎসাহ দিয়ে আমরা এগুতে থাকি বাংলা বিভাগের দিকে। রবিশংকর বল কক্ষেই থেকে যান। শরীরের কারণে তিনি সাহস করলেন না বাইরে বেরুতে। আমরা বেরুনোর সময় তিনি জহর সেনমজুমদারের কাছ থেকে চেয়ে নিলেন ভবচক্র; ভাঙা সন্ধ্যাকালে । বললেন, তোমরা কাজ সেরে আসতে আসতে বরং আমি জহরের কাব্যগ্রন্থটি পড়ে শেষ করি। বাংলা বিভাগে আমরা শামীম রেজার কক্ষে বসি। রেজা শিক্ষার্থীদের ডেকে যে ক্লাশরুমে বক্তৃতা হবে সেই ক্লাশ রুম প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন। এই ফাঁকে ছোট্ট আড্ডা জমে রেজার কক্ষে। বাংলাবিভাগের শিক্ষক কবি হিমেল বরকত, রিলকে রশীদ, গল্পকার খোরশেদ আলম-সহ কয়েকজন ছাত্র এই আড্ডায় অংশ নেন। ক্লাশ রুম প্রস্তুত হলে আমরা সেখানে যাই। ক্লাশ ভর্তি শিক্ষার্থী। শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত কবি খালেদ হোসাইন। এখানে প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখা ভালো; আমি খালেদ ভাইয়ের বক্তৃতার গুণমুগ্ধ শ্রোতা। রাজবাড়িতে একটি সাহিত্য সম্মেলনে বছর কয়েক আগে তার একটি বক্তৃতা শুনে আমি তাকে আমার মুগ্ধতার কথা জানিয়ে ছিলাম। রেজার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি বক্তৃতার পর ক্লাশ কক্ষে যেখানে জহর সেনমজুমাদারের জন্য আসনের ব্যবস্থা করা হয়; তা যথাযথ না হওয়ায় তিনি বক্তৃতায় খেই হারিয়ে ফেলছিলেন। স্থান পরিবর্তন করেও কাজ হয়নি। বারবার শিক্ষার্থীরা দরজা খুলে বাহির-ভিতর করছিলো। মোবাইল বাজছিলো। শিক্ষার্থীরা পরস্পরের সঙ্গে কথা বলছিলো। এমন পরিস্থিতিতে ধ্যানমগ্ন কোন অধ্যাপকের পক্ষে বক্তৃতা করা সম্ভব নয়। বারবার বক্তৃতা বন্ধ করে থেমে থাকছিলেন জহর সেনমজুমদার। আমরা সামনে থেকে তাকে উৎসাহ দেই। তিনি আবার শুরু করেন। কিন্তু জীবনানন্দের কবিতা বিশ্লেষণ করতে হলে যে পরিমাণ নিরবতার প্রয়োজন; তা না পাওয়ায় তিনি দ্রুত বক্তৃতা শেষ করে দেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তার কাছ থেকে যতোটুকু নিতে পেরেছিলেন; এর সামান্যও নিতে পারেননি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

তিন.
বক্তৃতা শেষে ফের আড্ডা বসে রেজার কক্ষে। সেই আড্ডায় যোগ দেন বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্ররা। আমরা ফের ফিরে আসি টিএসসির রেস্ট হাউসে। এসেই দেখি রবিশংকর বল কি এক বিভ্রমের মধ্যে নিমজ্জিত। উঠে এসে জহর সেনমজুমদারকে জড়িয়ে ধরে রীতিমতো কেঁদে দেন। জহর তুই একি করছিস! এ এক অসাধারণ গ্রন্থ! আমি কোলকাতায় ফিরে এই গ্রন্থ নিয়ে অবশ্যই লিখবো। দুই বন্ধুর সেই আনন্দ-অশ্রু জড়ানো কোলাকুলির স্মৃতি; আবেগঘন উচ্চারণের স্মৃতি অনেককাল সুখ-স্মৃতি করে মনে রেখে দেবো। রেজার ফোন বাজে। বিথিকা শামীম, মানে রেজার স্ত্রী; মানে আমাদের সকলের প্রিয় ভাবি ফোনে তাড়া দেন। দুপুরের খাবার প্রস্তুত। তার কিছু পরেই ছুটতে হবে এয়ারপোর্টে। অন্যদিক থেকে দেবেশ রায়কে নিয়ে আসবেন সালমা বাণী। আমরা রেজার বাসায় যাই। খাবারের বিশাল আয়োজন। বিথীকা ভাবি সবকিছু নিজ হাতে তৈরি করেছেন। একটা বিষয় লক্ষ করে আমি ঈর্ষাবোধ করি কখনো কখনো। গত ২০ বছর ধরে দেখে আসছি রেজা প্রবলভাবে অতিথি বৎসল। অতিথিদের সবকিছু উজাড় করে দিতে প্রস্তুত থাকেন। এখন দেখছি রেজার স্ত্রী রেজা থেকেও আরেক কাঠি সরেস। অতিথিদের তিনি দ্রুত পরিবারের সদস্য করে নেন। নিজ হাতে সব খাবার রান্না করে পরিবেশন করেন। এমন মানিকজোড় সচরাচর দেখা যায় না। এরা উভয়ে ভাগ্যবান-ভাগ্যবতী।

বিদায়ের আগে

জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাসকে বিদায় জানিয়ে আমরা যখন আশুলিয়া হয়ে এয়ারপোর্টের পথে রেজা তার ছাত্র রহমান মতিকে বলেন, মতি এবার গান ধরো। মতি গান ধরে, তোমরা হয়ত ভুলে গেছ মল্লিকাদির নাম/ সে এখন ঘোমটা পরা কাজল বধূ দূরের কোন গাঁয়, যেদিন গেছে সেদিন কি আর ফিরিয়ে আনা যায়...। রবিশংকর বল এবং জহর সেনমজুমদার চমকিত হন। তারপর একে একে অনুরোধ করতে থাকেন এই গান সেই গান। মতি যতোটা পারে গেয়ে যায়। মাঝে-মাঝে আমরা সবাই গলা মিলাই। এরই মধ্যে গাড়ি প্রবেশ করে এয়ারপোর্টে। প্রবল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তিনদিন আগে কার্যকর করা ফাঁসির রেশ কাটেনি। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং স্থানে একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে শেষ পর্যন্ত রেজা আর আমি জহর সেনমজুমদার এবং রবিশংকর বলকে নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করি। অন্যরা বাইরে থেকে যায়। এছাড়া উপায় ছিলো না। কিছু সময় পর সালমা বাণী দেবেশ রায়কে নিয়ে প্রবেশ করেন। তিনিও একই নিরাপত্তা বেষ্টনীর মুখোমুখি হয়েছেন। সময় দ্রুত গড়াতে থাকে। রিপোর্ট করার সময় হয়ে যায়। বাণী আপা তার উপন্যাস গোলাপী মঞ্জিল  উপহার দেন রবিশংকর বল এবং জহর সেনমজুমদারকে। দেওয়ার সময় বলেন, কবিরের আপত্তির পরও আপনাদের গ্রন্থটি দিলাম। সালমা বাণীর এই উপন্যাসটির বিপুল প্রশংসা করেছেন দেবেশ রায়। আমার আপত্তি অন্যখানে। গ্রন্থটিতে অনেক ভুল রয়ে গেছে। সে ভুল লেখকের নয়; প্রকাশকের। অনেক অযত্নে প্রকাশ করা হয়েছে গ্রন্থটি। দেবেশ রায়, জহর সেনমজুমদার, রবিশংকর বল আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ভিতরে চলে যান। আমরা কিছুক্ষণ তাদের চলে যাওয়ার দিকে চেয়ে থেকে গাড়ির দিকে এগুই এই আশায় : দ্রুত ফের দেখা হবে সহজনেরা...!  

আগের পর্বগুলো পড়তে ক্লিক করুন—

জন্মের আগে ফেলে যাওয়া স্মৃতির খোঁজে || কবির হুমায়ূন || নবম পর্ব     

 

 

 

 

          

 

 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।