দুপুর ০২:১৯ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৭ জুন, ২০১৯  

শেকড়ের সন্ধানে ওরা ৫ জন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

এহতেশাম ইমাম।।

ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হচ্ছে অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা। সুশাসন সম্পর্কে সচেতনতা ও অধিকার রক্ষা বিষয়ক জ্ঞান অর্জন শুরু হওয়া উচিত ছাত্র জীবন থেকে। মুখে এসব বললেও করি কোথায়? কিন্তু কেউ না কেউ তো এসব সম্পর্কে সচেতন হচ্ছেন আর কাজ করে যাচ্ছেন।  এই কর্মবীরদের তালিকা করলে একদম শীর্ষে থাকবে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক এর শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি থাইল্যান্ড ইনস্টিটিউট অফ জাষ্টিস এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক যুব সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে,  এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মানবাধিকার বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থী। এই সম্মেলনে অংশ নিতে তাদের রীতিমতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে বাংলাদেশের শীর্ষ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে।

তিনদিনের এ সম্মেলনের শেষদিনে আয়োজকদের বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে  বাংলাদেশের এই দলটি। আইনের শাসনের মাধ্যমে জাতিসংঘের প্রস্তাবিত স্থায়ী উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনে মানবাধিকার নিশ্চিতে নীতিমালা প্রস্তাব করে এই দলটি। আর এ প্রতিযোগীতায় নিজেদের উদ্ধাবনী প্রস্তাবনা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং এটি সর্বস্তরে স্বীকৃতি পায়।

এ বিষয়ে দল প্রধান জাবের আহমেদ বলেন,আমাদের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে মাঠপর্যায়ের মানুষদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা। তারা এই ক্যাম্পেইনের নাম দিয়েছে, ‘শিকড়ের সন্ধানে।’ এটাই ছিল আমাদের প্রজেক্টের মূল হাতিয়ার যা আয়োজকদের কাছে খুবই গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছে।

এ দলের আরেকজন ফারহানা সুলতানা। তিনি বলেন, তাদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন,শিকড়ের সন্ধানের মূল লক্ষ্য হলো সচেতনতা তৈরি করা। এজন্য তারা  সোশ্যাল এওয়ারনেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই ক্লাবের সদস্যরা বিভ্ন্নি প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে মানুষকে তাদের তথ্য, আইনের মতো রাষ্ট্রীয় অধিকারের বিষয়গুলো সর্ম্পকে কাজ করে আসছে।  এজন্য তারা মাঠপর্যায়ে নানা সেমিনারের আয়োজনও করে আসছে।

এইউপি টিম মেম্বাররা তাদের যুব সম্মেলনের শেষ দিনের প্রেজেন্টেশনে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষায় তুলে ধরেন সর্বমোট ১২টি প্রস্তাব। যার পাঁচটি সরাসরি গৃহীত হয়েছে এ সম্মেলনে।

আর সবচেয়ে আনন্দের খবর হচ্ছে, প্রস্তাবগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছে এশিয়ার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়।  যার মধ্যে আছে সিঙ্গাপুর  ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি,থাইল্যান্ড মাহিদুল ইউনিভার্সিটি,মিয়ানমারের ইউনিভার্সিটি অব ইয়াঙ্গুন,আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব আফগানিস্তানসহ আরও বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়।

নিজেদের প্রস্তাবিত ধারণাগুলো বিশ্বের কাছে পৌছে দেওয়ার অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে আরেক সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, থাইল্যান্ডের রাজকীয় পরিবারের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে থেকে শিখেছি অনেক কিছুই। এরই মধ্যে আমাদের প্রস্তাবগুলো ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে বিশেষভাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমন্ত্রণ আসতে শুরু করেছে। এছাড়া দেশি-বিদেশি অসংখ্য নতুন বন্ধু হওয়ায় শুধু দেশীয় পর্যায়ে নয়,আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আমাদের পরিশীলতা বাড়বে।”

তবে শুধু আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে নয়,সবার নিজের দেশের প্রেক্ষাপটে কাজ করতে চান এই তরুণ দলটি। রাষ্ট্রীয় অধিকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেবা প্রকৃত গ্রামের মানুষগুলোর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মরত সোশ্যাল অ্যাওয়ারনেস ক্লাব।

এ বিষয়ে ক্লাবটির সম্বনয়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা। তিনি বলেন সাধারণ মানুষ ছাড়া রাষ্ট্র অচল। আর সে কারণে সোশ্যাল অ্যাওয়ারনেস ক্লাব মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী কয়েকমাসের মধ্যে বিভিন্ন জেলা শহরে এ ক্লাবের বেশ কয়েকটি শাখা খোলা হবে বলেও জানান তিনি।

এ লক্ষ্যে ক্লাবটি দলিত, হিজড়া সম্প্রদায় থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বঞ্চিত শ্রেণিকে নিয়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ভঙ্গির পরিবর্তনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে।

এখন শুধু কাজ করার অপেক্ষা। আপনাকে আপনার অধিকার ও সার্বিক মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে আসছে ইউএপি এর এই শিকড় সন্ধানী দলটি। অপেক্ষা থাকুন আইন দিয়ে বিশ্বজয়ের।

/এফএএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।