রাত ০৪:২৯ ; সোমবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৯  

জনগণ সবসময় আওয়ামী লীগের পাশে ছিল : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সব নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার বহু চেষ্টা হয়েছে। কেউ কখনও তা পারেনি, কখনও সফল হবে না। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দল টিকে আছে, দেশসেবা করে যাচ্ছে। উজানে নাও ঠেলে ঠেলেই আমরা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যাচ্ছি।

আওয়ামী লীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এক অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায়ও বক্তব্য রাখেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা।

জনগণ কখনও বিভ্রান্ত হয়নি মন্তব্য করে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শত প্রতিকূলতা ও অপপ্রচার মোকাবেলা করেই আওয়ামী লীগকে এগিয়ে যেতে হয়েছে। তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আওয়ামী লীগের পাশে ছিল।

আওয়ামী লীগই বাঙালি জাতির জন্য সব থেকে বড় বড় অর্জন এনে দিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে নিয়ে ঠাট্টা করত, তারাই এখন বলছে, বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মাতৃমৃত্যু হার ও দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে আজ দৃষ্টান্ত।

‘বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে চলেছে।  বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ক্রিকেটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলকেও আমরা হারাতে পারি। একটু উৎসাহিত করলে আর সুযোগ দিলেই তারা যেকোনও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শ হচ্ছে জনগণের কল্যাণ করা। এটাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। জনগণ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি।’ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা মানে বাঙালি জাতির আর্থসামাজিক উন্নতি হওয়া এবং জনগণের কিছু প্রাপ্তি। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরে সমুদ্রসীমানা, স্থলসীমানা সবকিছু বঙ্গবন্ধুই ঠিক করে গেছেন। শুধু তা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি।

এদিকে বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে দলের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনও উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সংগঠন প্রয়োজন হয়। আওয়ামী লীগ তাই করেছে। আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিতেন বঙ্গবন্ধু। ৬৬ সালে ৬ দফা পেশ করলেন। ঘরে বসে থাকেননি তিনি। সমগ্র বাংলাদেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন।

দলকে সুসংগঠিত করতে বঙ্গবন্ধুর অবদান স্মরণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়ে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে রাখা হয়। আমরা জানতামই না তিনি কোথায় রয়েছেন। তবে ‍বাংলাদেশের মানুষ জাতির পিতার আদর্শ মেনে চলেছে। এরপর গণঅভ্যুত্থান হলো। তিনি মুক্তি পেলেন। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিজয়ের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন, আওয়ামী লীগকেও প্রস্তুত রেখেছেন।

 
তিনি বলেন, বিদেশেও জনমত গড়ে তোলেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও তাকে ক্ষমতায় যেতে দেওয়া হবে না তা জানতেন তিনি। তাই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধু নির্দেশ দিয়েছিলেন, প্রতি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। কিছু রাজাকার ও পাকিস্তানিদের পদালেহনকারী ছাড়া। প্রত্যেক এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলা হয়। মাইকিং টেলিগ্রাম, লিফলেট বিতরণ করে তা প্রচার করা হয়। এতে বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়ে। কোণঠাসা হয়ে পড়ে পাকবাহিনী।

এর আগে জাতীয় সংসদের আলোচনায় অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, যারা এক সময় বলত- বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি, আজ তারাই বলছে, বাংলাদেশ আজ মিরাকল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রিজার্ভ আজ ২৪ বিলিয়ন ডলার, রফতানি ৩১ বিলিয়ন ডলার। প্রধানমন্ত্রী দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ আর স্বপ্ন নয়। আমরা পাকিস্তান থেকে এগিয়ে আছি। অনেক ক্ষেত্রে ভারত থেকেও এগিয়ে।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, আওয়ামী লীগ লক্ষ্যচ্যুত হয়ে যাওয়ার সংগঠন নয়। পাকিস্তান থেকে এ পর্যন্ত দেশে যত অর্জন, সব আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ অর্থনীতি সুদৃঢ় করতে সচেষ্ট হয়েছেন। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সমৃদ্ধিশালী দেশ হবে।

 

/ইএইচএস/এএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।