রাত ১০:২০ ; রবিবার ;  ২০ অক্টোবর, ২০১৯  

কূটনীতিকদের ইফতারে ডেকে নালিশ করল জামায়াত

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে সরকারের বিরুদ্ধে নালিশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এ নালিশ করা হয়। সেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই দলীয় নেতা আবদুল কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানকে ‘অসুষ্ঠু ও অত্যন্ত বিতর্কিত বিচার প্রক্রিয়ায় হত্যা করা হয়েছে’ বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তবে সংবাদ মাধ্যমকে দাওয়াত করা হয়নি এ ইফতার মাহফিলে ।

জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদের একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে মুজিবুর রহমান বলেন, আমরা দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, বর্তমান ক্ষমতাসীন অগণতান্ত্রিক সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকার তার হিংসার রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য আমাদের অত্যন্ত সুপরিচিত দুইজন কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতা শহীদ আবদুল কাদের মোল্লা ও শহীদ মুহাম্মাদ কামারুজ্জামানকে অসুষ্ঠু ও অত্যন্ত বিতর্কিত বিচার প্রক্রিয়ায় হত্যা করেছে। এছাড়া বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে।

বক্তব্যে কোরআন শরিফের একটি আয়াতকে ব্যবহার করে বলা হয়, ‘নেকি ও আল্লাহভীতির সমস্ত কাজে সবার সাথে সহযোগিতা করো এবং গুনাহ ও সীমা লঙ্ঘনের কাজে কাউকে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় করো। তাঁর শাস্তি বড়ই কঠোর।’

তবে পরে ঢাকা মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন জানান, ইফতার মাহফিলটি হোটেল ওয়েস্টিনে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে সংবাদ মাধ্যমের অংশগ্রহণের অনুমতি ছিল না।

গত বছরও বিদেশি কূটনীতিকদের সম্মানে একই হোটেলে ইফতার ডেকেছিল জামায়াত। সেখানে গণমাধ্যমের কয়েকজনকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। পরে এ নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে সমালোচনা হয়।

জামায়াতের ইফতারে অংশ নিয়েছেন এমন একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান, মূলত গত বছরের সমালোচনার কারণেই এ বছর বিদেশিদের বাইরে কাউকে বলা হয়নি।

সোমবার রাতে জামায়াতের প্রচার বিভাগের কর্মচারী এম আলম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স ও কূটনীতিকদের সম্মানে এক ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরাক দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বেইসান জে. আবদুল লতিফ, ওমান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ওমর মুহাম্মদ রামাদান আল-বুসাইরি, পাকিস্তান হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার সামিনা মেহতাব, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ড. লুসিনডা বেল, ফিলিস্তিন দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব দ্য মিশন ইউসেফ এস. ওয়াই রামাদান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি চিফ অব মিশন ফিরিডেরিক মাদুরাউড, আইআরআই- এর রেসিডেন্ট কান্ট্রি ডিরেক্টর ডিসিধর স্টোজকভ, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন বাহরাম সাঈদ জাদে, এনডিআই-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর সাইফুল করিম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভ্যাটিকান সিটি, ব্রিটিশ, জাপান, তুরস্ক, সুইডেন, চীন, সৌদি আরব প্রভৃতি দেশের কূটনীতিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

বিবৃতিতে জানানো হয়, এ ইফতার পার্টিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাড. জসিম উদ্দিন সরকার, আবদুর রব, অ্যাড. মশিউল আলম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন প্রমুখ।

মকবুল আহমাদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনও সন্ত্রাসবাদে বিশ্বাস করে না। বরং সন্ত্রাসবাদকে পাপের কাজ বলে ঘৃণা করে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জামায়াতের ইসলামীর সংগ্রামের গৌরবজনক ইতিহাস আছে। কিছু অন্যায়কারী লোক ছাড়া কেউই জামায়াতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ আনতে পারে না। বর্তমানে দেশের জনগণের জানমালের কোনও নিরাপত্তা নেই। দেশের জনগণ ভয়ভীতি ও উদ্বেগের মধ্যে আছে।

/এসটিএস/এএইচ /

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।