সকাল ১০:৪১ ; রবিবার ;  ২১ এপ্রিল, ২০১৯  

গন্তব্য হলিউড!

প্রকাশিত:

মনন মুনতাকা।।

ছোট বেলা থেকেই ইচ্ছে পাইলট হবে । কারণ তার একটাই আকাশ খুব পছন্দ। বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়ে একদিন ডাক্তার হবে। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিল মেয়ে। অনেক কিছুই হওয়ার কথা ছিল রোদ নামের সেই মেয়েটির। পুরো নাম শাহলা ইসলাম রোদোশী। আদর করে সবাই রোদ ডাকে তাকে। পড়াশোনা করছেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ এ সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে।

রোদশীকে নিয়ে অনেকের অনেক ইচ্ছা ছিল, স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেটি বদলে গেল ২০১০ সালে। মেয়েটি নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করল। তখন সে মাত্র উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। কেমন করে যেন রোদশীর মাথায় ঢুকে গেল চলচ্চিত্র বানানোর ভূত হয়ে।  শুরুটা কেমন ছিল জানতে চাইলেই রোদশী জানালেন, বান্ধবী ফারিহা তাকে এই পথ দেখিয়েছিলেন। প্রথমবারই অংশ নেন ৩য় আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবে।  নিজের কোনও ক্যামেরা ছিল না। খালাতো বোনের হ্যান্ডিক্যাম নিয়েই আর বান্ধবীর মামার লেখা গল্প নিয়েই তৈরি হয়েছিল দুই বন্ধুর চলচ্চিত্র নির্মান।

শুরুর গল্প...

প্রথম চলচ্চিত্রের নাম দেওয়া হয় “ টুকটুকির চশমা”। রোদ এটাকে বলেন পরীক্ষামূলক কাজ। কিন্তু এই ফিল্ম দিয়েই বাজিমাত করে দিয়েছিলেন সেদিনের ছোট্ট রোদ। রোদ আর ফারিহার প্রথম ফিল্ম “ টুকটুকির চশমা “৩য় আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথম পুরস্কার জিতে নেয়। যেখানে অংশগ্রহণটাই রোদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার ছিল সেখানে প্রথম পুরস্কার পাওয়া তাও আবার প্রিয় পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম এর হাত থেকে সেদিনটা রোদের জন্য স্বপ্ন ছাড়া আর কিছু ছিল নাহ।

ওই যে চলচ্চিত্রের মজা একবার পেল রোদ তার পর থেকে এখন তার ধ্যান জ্ঞান শুধু সিনেমাই। রোদ এখন পর্যন্ত মোট চারটি ফিল্ম বানিয়েছে টুকটুকির চশমা , স্বপ্নযাত্রা , ওয়ার্ল্ডকাপ লাইভ,স্মাইল উইথ লাভ।

রোদের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র স্বপ্নযাত্রা মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছিল।

রোদের দিনকাল...

ঘুরতে অনেক পছন্দ করে রোদ। এরই মধ্যেই চারটি দেশ আমেরিকা, চীন, হংকং, এবং নেপাল ঘোরা হয়ে গেছে তার বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে।  

ক্যম্পাসের প্রিয়মুখ সবসময় মাতিয়ে বেড়ান বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। ক্যাম্পাসের নানা কাজে অংশ গ্রহণ একদম নৈমিত্যিক। রেডিও জকি হিসেবে কাজ করেছেন  ইউল্যাব রেডিও ক্যাম্পাসে, ভিডিও জার্নালিস্ট হিসেবে ছিলেন প্রিয় ডটকমে। 

বর্তমানে ইয়্যুথ অর্গানাইজেশন ড্রিম অন এর প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ ইয়্যুথ এনভায়রনমেন্ট ইনিশিয়েটিভের প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করছেন।

 রোদের প্রিয়-অপ্রিয়...

রোদের ভালো লাগে ঘুরতে, বই পড়তে আর গান শুনতে। রোদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন এখন প্রায় শেষের দিকে ইন্টার্ন করছেন নেপালের মিডিয়া হাউস সাউথ এশিয়ান কমিউনিকেশন থেকে। রোদের খুব ইচ্ছা শিশুদের নিয়ে কাজ করার তাদের জন্য কাজ অনেক কম করা হয়েছে বাংলাদেশে। কিন্তু রোদের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হচ্ছে হলিউডে কাজ করার। “আমার একটাই স্বপ্ন আমি হলিউডে কাজ করতে চাই” হাসতে হাসতে বলছিলেন রোদ।

রোদশীর এই স্বপ্ন নিশ্চয় একদিন পুরণ হবে এই প্রত্যাশাই সবার।

/এফএএন/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।