রাত ০৮:২১ ; বুধবার ;  ২৫ এপ্রিল, ২০১৮  

মোস্তফা তারিকুল আহসান-এর কবিতা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

স্কুলের খাতা

তোমার স্কুলের খাতা বাতাসে উড়ে গেলে তুমি কী খুব কষ্ট পেতে?
কবিতা নাকি দুটো ছড়া– লেখা ছিল সে খাতায়, কাকেরা নিয়ে
খেলত, তার নিচে ঘেউ ঘেউ করতো কয়েকটি কুকুর। তোমার 
উদ্বিগ্ন মুখ দেখে আমি বেশ বিষণ্ন হয়েছি; না তোমার কবিতা 
না তোমার ছড়া, তোমার রৌদ্রবর্ণ মুখে হারিয়ে যাওয়া কবিতার
অক্ষর বর্ণ যতি চিহ্ন খেলা করে– হালকা দুপুরে জামরুলের
মতো তোমার নাক উত্তেজিত হয়– মুখ ফুলে যায়। তুমি কবি
হয়ে উঠতে ছিলে কবে আমি জানতে পারিনি, তবে তোমার 
রৌদ্র কবিতার সুবাস পেতাম; তোমার লাল ফ্রকে কবিতার রঙ
আর লালিমা লেগে ছিল ঘন আস্তরণে। একে কোন নাম দিই নি 
আমি। তুমি যখন উবু হয়ে মাটিতে বসে নিচু বেঞ্চে পংক্তি লিখে যেতে
আমি আনমনে বানান দেখার অজুহাতে উঁকি দিতাম; নীল রঙের
তোমার স্কুল খাতার কভার পেজ আকাশের  সাথে একাকার
হয়ে যেত। তোমার সেই খাতা কী তুমি ফিরে পেয়েছিলে?
আমার মনে নেই। তুমি কী শেষ পর্যন্ত পরিপূর্ণ কবি হয়ে 
উঠেছিলে? আমি জানি না। তবু সেই নীল স্কুল খাতা অথবা
তার কয়েকটি লাইন আমাকে নীল অবগাহনে ভাসিয়ে নিয়েছিল সেদিন।

 

শৈশব

কোথাও বৃষ্টি হয়েছে এখন; তার সৌরভ মিশে আছে জানালার গরাদে পুরাতন 
শৈশবের মতো। যেমন ফিরে আসে কাকাতুয়া শুকনো জারুলের ডালে আর আমাদের
লোনাধরা দিনের ছবি আমরা তীর্যক গেথে ফেলি বিকেলের এক ফালি আকাশে
ভীরুতা গান কিংবা যৌবনের ভ্রুকুঞ্চন আর বান্ধবীর নরোম চোখ আমাদের কল্পনার রাজ্যে
ঘুরপাক খায়। ধানের খেতের মতো রুপালি উঠানে আমারা আর সমবেত হব না জানি
কপালের ঘাম মুছে, নাকের শুকনি ফেলে আমি ছুটে যাবো না নরহরি কাকার গল্পের আসরে
অথবা মৃত সায়রে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে কতিপয় বন্ধুর সাথে মেতে উঠবো না পুরাতন তর্কে। 
ফেলে আসা দিন স্বভাবতই উজ্জ্বল মনে হয় আর আমরা খুঁজে ফিরি শৈশবের সাদা কালো
পাণ্ডুলিপি, বাঁশবাগানের ধারে, নয়ন জুলির কিনারে আমাদের অবিমিশ্র আনন্দযোগ আমাকে
ডাকে ইশারায়– চেনা তক্ষক বলে সব ঠিকঠাক ছিল। সব আকাঙ্ক্ষার ডালপালা বিস্তৃত ছিল
সন্ধ্যার প্রগাঢ় রঙে– দারুণ শৈশবে সে তো আজো দিগন্তে উঁকি দিয়ে ডাকে পুরনো সোদা গন্ধের মতো।

 

চোখ

চোখের ভেতরে কী চোখ আছে? তা না হলে চোখকে চোখ দেখে
কী করে? কীভাবে অঞ্জন মাখে? কীভাবে ভেতর থেকে কান্নার
তরল নেমে আসে পাতায়? সমুদ্রের লবণজল কীভাবে উঠে আসে চোখে
চোখ কী তা জানে? প্রথম আদিম চোখ দেখতো যতটুক পৃথিবী
আজ দেখে তার সহস্রগুণ– তার চোখের জানালায় কত চোখ জমা
হলো, কত সভ্যতার নুন, ধুলোবালি কাঁদা! বস্তুত, চোখ তৈরি করেছে
আমাদের চলার পথ। মানবকে মূলত চোখের প্রতিশব্দ ভাবে কবি
তুমি জানালায় বিকেল রোদ নিয়ে খেলা করার সময় বৃষ্টির
কারুকাজ দেখে হয়তো শুষে নিচ্ছ কবিতার দ্যোতনা: তুমি রাতের
মদিরা থেকে পাতার শব্দ শুনে খুঁজে নিচ্ছ হয়তো তোমার কবিতার পদ
পদের ভেতরে পদ- চোখর ভেতরে চোখ যেন; আরো গভীরে যাবার 
জন্য তোমার যে কারসাজি তাকে কী করে ব্যাখ্যা দেবে? কোন নৈনিতালে
গিয়ে তুমি শিখে এসেছ প্রকৃতিবিদ্যা? কে তোমার সহগ ছিল? 
গাইড নাকি দুটো চোখ? তুমি কী জানো নালন্দার পথে পথে ভিক্ষুরা
অন্ধ ছিল কিনা? অন্ধ হলের ফলাফল ভিন্ন হতো কী? তুমি দেখ,
তোমার মস্তিষ্কে হাজার হাজার চোখের কোষ তোমাকে নিয়মিত পরামর্শ
দিয়ে চলে; রাতে দিনে নক্ষত্রে বাতাসে সে অহমের ছবি তৈরি করে–
দেখতে পাও কী চোখের ভেতরে চোখ? আরো গভীর থেকে
তাকিয়ে আছে তোমার দিকে?

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।