রাত ০১:৫২ ; শুক্রবার ;  ২১ জুন, ২০১৯  

চিত্রগ্রাহকদের স্কুল 'পাঠশালা'

প্রকাশিত:

এহতেশাম ইমাম।।  

দীর্ঘ আট বছর ধরে আর্ন্তজাতিক একটি দাতব্য সংস্থায় চাকরি করছেন আল আমিন। শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রজেক্টের কাজ কমবেশি প্রতি মাসে তাকে ছুটতে হয় প্রত্যন্ত এলাকায়। যেখানে তাকে অফিসের কাজে তুলে আনতে হয় বিভিন্ন মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ চিত্র। অ্যাকাউন্টিং এ স্নাতক আল আমিন মাঝে মাঝেই হোঁচট খান আধুনিক ডিএসএলআর ক্যামেরার ব্যবহার করতে। পুরো কাজটি সম্পূর্ণ করতে তাই নির্ভর করতে হয় চিত্রগ্রাহক থেকে শুরু করে ভিডিও এডিটর পর্যন্ত। তাই অন্যানদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে কাজটি নিজহাতে শেষ করার স্বাদ নেওয়ার আগ্রহ একটু বেশি গাঢ় হয়েছিল তার।

এ কাজটি পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিখতে ব্যস্ত যীপনযাপনের মাঝে সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে ক্লাস মিলিয়ে পাঠশালা থেকে শেষ করেছেন তিনমাসের ফিল্মমেকিং কোর্স। এখন অফিসে আল আমিন নামের চেয়ে আরেকটু বেশি পছন্দের নাম পেয়েছেন ক্যামেরা আমিন। যেটি তিনি উপভোগই করেন।

এভাবে ছবিতোলা বা ক্যামেরার বিষয়ে শূন্য ধারণা নিয়ে শুরু করে অনেকেই এখন হয়ে উঠেছেন ছবি তোলায় দক্ষ। তবে এসব বিষয় ছাপিয়ে যেটি আরও বেশি গুরত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সেটি হলো কি শিখছেন বা কোথা থেকে শিখছেন।  ছবি তোলার হাজারও কায়দা কানুন পূর্ণাঙ্গভাবে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দিতে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজ করে যাচ্ছ ‘পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট’ ওরফে পাঠশালা।

ছবি তোলা মানে অনেক কিছু, আছে হাজারও কায়দা কানুন। এ বিষয়ে পাঠশালার প্রিন্সিপাল শহিদুল আলম বলেন, “তথ্য দেওয়া কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। এর জন্য গ্রন্থাগার রয়েছে। ইন্টারনেট রয়েছে। চিন্তাশীল ব্যক্তি তৈরি করা এবং পদ্ধতি শেখানো আমাদের কাজ। বাকিটা জীবন থেকে শিখে নেওয়া।

এই প্রতিষ্ঠানে গোড়াপত্তনের শুরুর গল্প একটু ভিন্ন। পাঠশালার যাত্রা শুধু ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে ঘিরে নয়, বরং বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে নতুন করে চেনাতে স্থিরচিত্র ধারণকারী তৈরি করতে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রধান তানভীর মুরাদ তপু বলেন, দৃক প্রতিষ্ঠার পেছনের প্রধান কারণ ছিল আমাদের দেশের আলোকচিত্রীদের নিজেদের গল্পবলার একটি স্থান তৈরি করা। আর ক্যামেরার চোখে সেই গল্পগুলো বলতে গিয়ে দেখা গেল আমাদের মধ্যে সৃজনশীলতা থাকলেও সেগুলো যথোপযুক্ত ব্যবাহরে যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দরকার সেটি আমাদের নেই। সেটি তৈরি করতেই কাজ করছে পাঠশালা।

কেন পড়বেন পাঠশালায়...

জন্মলগ্ন থেকেই অন্যান্য তথাকথিকত প্রতিষ্ঠানের চেয়ে নিজস্বতা নিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করতে সমর্থ হয়েছে পাঠশালা। বর্তমানে পাঠশালার বেশিরভাগ শিক্ষক প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন শিক্ষার্থী। যারা পাঠশালার কোর্স সম্পন্ন করার পর দেশের বাইরে যেয়ে আরও উচ্চত্তর ডিগ্রি নিয়ে এসেছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আদর্শ হিসেবে মানতে নারাজ পাঠশালা। তাদের বিশ্বাস চার দেয়ালের ভেতরে সম্ভব নয় মুক্তচিন্তা। আর সে কারণে নিজেদের পুরোপুরি মুক্তমনা হিসেবে বিশ্বাস করতে আগ্রহী পাঠাশালার পধচলার কাণ্ডারিরা। এ কারণে তারা বিশ্বাস করেন পাঠশালা একটি অণুপ্রেরণার জায়গা।

তপু জানান, পাঠশালার সবচেয়ে বড় শক্তি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এর বিস্তৃতি। সম্প্রতি পাঠশালা অসলো ইউনিভার্সিটি কলেজ, গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যানিস স্কুল অব ফটো জার্নালিজম এর সঙ্গে শিক্ষার্থী আদান-প্রদান সংক্রান্ত চুক্তি করেছে। এর অংশ হিসেবে পাঠশালার শিক্ষার্থীরা ঘুরে এসেছেন চীন, মিসর, নেপাল, ভারত, মিয়ানমার সহ বেশ কয়েকটি দেশ।

এছাড়া, তূলনামুলক কম ব্যয়বহুল হওয়ায় বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় অনেক কম টাকা খরচে শিক্ষার্থীরা সুযোগ পাবেন আর্ন্তজাতিক মানের শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষার সুযোগ। ইতোমধ্যে বেসিক, ফাউন্ডেশন, তিন বছরের প্রফেশনাল প্রোগ্রামের অংশ নিয়ে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী পেয়েছেন পাঠশালার ডিগ্রি।

প্রফেশনাল প্রোগাম অন ফটোগ্রাফি

ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে পাঠশালা আগামী জুলাই থেকে আবার শুর করতে যাচ্ছে তিন বছরের। প্রফেশনাল প্রোগাম অন ফটোগ্রাফি’ কোর্স। যেখানে শেখানো হবে ছবি তোলার কৌশল,ডকুমেন্ট্রি ফটোগ্রাফি, ফটোজার্নালিজম, ভিজুয়াল এনথ্রপলোজি, পোর্ট্রেট, হিস্ট্রি, স্টুডিও ফটোগ্রাফি এবং ডার্করুমসহ নানাবিধ কোর্স।  চাইলে আপনিও হতে পারেন পাঠশালার একজন।  সেক্ষেত্রে আপনার আছে আর মাত্র দুদিন। ২০ তারিখের মধ্যেই শেষ করতে হবে ভর্তি আবেদনের সব আনুষ্ঠানিকতা।

বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ -

পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট

১৬,শুক্রাবাদ,পান্থপথ,ঢাকা-১২০৭

ফোন: ০২-৯১২৯৮৪৭/০১৭৯৫০৯৪২৭১

এছাড়া ভিজিট করতে পারেন www.pathshala.net এই ঠিকানায়।

 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।