রাত ০৪:২৯ ; সোমবার ;  ২০ মে, ২০১৯  

ডিসেম্বরেই চার লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

ওমর ফারুক।।

গত পাঁচ বছরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেন করার কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশ কাজ আগামী ছয় মাসে শেষ করার আশা করছেন করলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে চট্টগ্রামের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সড়ক যোগাযোগে সূচনা হবে এক নতুন দিগন্তের।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা থেকে দাউদকান্দি ব্রিজের দক্ষিণপ্রান্ত পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেন রয়েছে। এরপর দাউদকান্দি টোলপ্লাজা থেকে চট্টগ্রাম সিটিগেট পর্যন্ত ১৯২.৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়ককে চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে।

প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল ২০১২ সালে। কিন্তু এর আগের সরকারের আমলে টেন্ডার নিয়ে ঘাপলা, কমিশন গ্রহণ প্রবণতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, পাথর আমদানি, মাটি সংগ্রহে সমস্যা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় পদে পদে বাধাগ্রস্ত হয় এর অগ্রগতি। ফলে পাঁচ বার সময় বাড়াতে হয় প্রকল্পটির মেয়াদ।

অবশেষে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এলে প্রকল্পের অবকাঠামোর উন্নয়ন শুরু হয় ২০১০ সালের জানুয়ারিতে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দাউদকান্দি থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। বেশিরভাগ সড়কের কাজ প্রায় শেষ হওয়ার পথে। মহাসড়কের মাঝে প্রশস্ত ডিভাইডার কোথাও তৈরি করা হয়েছে, কোথাও তৈরির কাজ চলছে। দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ বাজারের কাছে আজমবাড়ী এলাকায় মহাসড়কের একদিক দিয়ে গাড়ি চলছে, অন্যদিকে মাটি ফেলে রোলার দিয়ে সমান করা হচ্ছে। এখান থেকে কুমিল্লামুখী বেশ কিছু পথে ডিভাইডার তৈরি হয়েছে।

কুমিল্লার মাধাইয়া বাজারে চলছে কালভার্ট নির্মাণকাজ। এ কারণে সংকীর্ণ লেন দিয়ে মন্থর গতিতে গাড়ি চলাচল করছে। ভয়াবহ যানজট হচ্ছে প্রায়ই। নির্মাণকর্মীরা জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে কালভার্টটি চালু করা সম্ভব হবে।

চান্দিনায় কয়েক কিলোমিটার মহাসড়কে এখনও কার্পেটিং হয়নি। কাবিলপুরে নির্মাণকাজ চলছে। চান্দিনা থানার কুরছাপ ও কেরনখাল গ্রামের ভেতর দিয়ে মহাসড়কের বাইপাস তৈরি হয়েছে। গত মাস পর্যন্ত বাইপাসটি চালু হয়নি। এ কারণে কেরনখাল এলাকার সংকীর্ণ কালভার্ট দিয়েও তৈরি হচ্ছে প্রচণ্ড যানজট।

যানজটে আটকেপড়া বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ আলী আহসান বাদল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কেরনখাল থেকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট হয়ে পদুয়ার বাজার পর্যন্ত প্রতিদিন যানজট হচ্ছে। উন্নয়ন কাজ শেষ হলে এ যানজট আর থাকবে না।

পদুয়ার বাজার দিয়ে যাওয়া রেলক্রসিংয়ের উপর ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই ফ্লাইওভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন। তারা জানান, ঘনঘন ট্রেন চলাচল করে বলে পদুয়ার বাজারের যানজট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফ্লাইওভার হলে এখানে মানুষের ভোগান্তি বহুলাংশে কমে যাবে বলে তাদের আশা।

দেখা গেছে, যেসব এলাকায় মহাসড়ক চালু হয়েছে সেসব এলাকা দিয়ে নির্বিঘ্নে বাস, ট্রাক, লরিসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। তবে বেশিরভাগ চালকই শৃঙ্খলা মানছে না। পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় উল্টোপথেও গাড়ি চালাচ্ছেন অনেকে। যার ফলে যানজট প্রায়ই কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

চট্টগ্রামের সিটিগেট থেকে মিরসরাইয়ের ধুমঘাট ব্রিজ পর্যন্ত চট্টগ্রাম অংশের ৬৬ কিলোমিটার অংশের কাজ প্রায় শেষ বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মহাসড়কটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কিছু সেতু ও কালভার্ট ভেঙে নতুনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের অধীন মহাসড়কে কালভার্ট হবে ২৪৩টি, ব্রিজ ২৩টি এবং রেল ক্রসিংয়ের ওপর ফ্লাইওভার বা ওভারপাস হবে তিনটি। বিভিন্ন বাজার ও ব্যস্ততম স্থানে স্টিলের ফুটওভার ব্রিজ হবে ৩৩টি। গত মাস পর্যন্ত ২৩৬টি কালভার্ট ও ২০টি ব্রিজ নির্মাণ হয়েছে। ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলছে।

প্রকল্পের অধীন মহাসড়কের ৬৬ কিলোমিটার পড়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে (মিরসরাইয়ের ধুমঘাট ব্রিজ থেকে সিটিগেট পর্যন্ত)। মহাসড়কের বাকি অংশ কুমিল্লা-ফেনী অঞ্চলে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের কাজ হচ্ছে চারটি প্যাকেজে। বাকি ছয়টি প্যাকেজ পড়েছে কুমিল্লা-ফেনী অঞ্চলে। প্রকল্পের কাজ করছে ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

ভুটানে সফররত যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোরলেন নির্মাণকাজ শেষ হবে। ফোরলেন নির্মাণের কারণে আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ হবে না বলেও আশা করেন তিনি।

প্রকল্প পরিচালক ইবনে আলম হাসান রবিবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ৩১ মে পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৭০ শতাংশ। বাকিটা এ বছরই শেষ করতে হবে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ১৩৮ কিলোমিটার মহাসড়ক পাকা করা হয়েছে। এর বেশিরভাগই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। পাকা হওয়া অংশের কোথাও কোথাও যান চলাচল বন্ধ রেখে ডিভাইডারসহ আণুষাঙ্গিক কাজ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রথমে প্রকল্প ব্যয় ছিল প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। কিন্তু বারবার সময় বৃদ্ধি করায় এই ব্যয় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৯০ কোটি ২৯ লাখ টাকায়। প্রকল্পের জন্য ৪০০ কোটি টাকা জাপানের ঋণ মওকুফ তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা সরকারের।

 

ছবি: মেহেদি হাসান

/ওএফ/এফএ/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।