দুপুর ০১:৫৪ ; মঙ্গলবার ;  ১২ নভেম্বর, ২০১৯  

বগুড়ায় যমুনার পানি বিপদসীমার উপরে, ত্রাণের জন্য হাহাকার

প্রকাশিত:

বগুড়া সংবাদদাতা॥

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। রবিবার বিকেলে সারিয়াকান্দি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এদিকে, গত শুক্রবার বিকেলে গোদাখালিতে নির্মাণাধীন বাঁধের ৬১ মিটার ধসে যাওয়ায় ওই স্থান দিয়ে পানি বিভিন্ন লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে অনেকে বাড়িঘর ভেঙে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। যারা আছে তাদের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে। বন্যা দুর্গতদের মাঝে শনিবার পর্যন্ত ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়নি। তবে রবিবার বিকেলে পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে রৌহদহ ও গোদাখালি এলাকায় ৫০০ জনকে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল মোত্তালেব জানান, সারিয়াকান্দি উপজেলার গোদাখালীতে নির্মাণাধীন বাঁধের ধসে যাওয়া প্রায় ৬০ মিটার অংশের মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে লোকালয়ে পানি প্রবেশের মাত্রা অনেকটাই কমে গেছে। তবে যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল মাহমুদ জানান, নতুন করে আর কোনও এলাকায় পানি প্রবেশ করেনি। যেসব এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে দুই একদিনের মধ্যেই পানি কমতে শুরু করবে বলে তিনি আশা করেন। দুর্গত এলাকায় এখনও সরকারি উদ্যোগে ত্রাণ সরবরাহ করা হয়নি। তবে, বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে নির্মাণাধীন বাঁধের প্রায় ৬০ মিটার ধসে যাওয়ায় সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ও চন্দনবাইশা ইউনিয়নের হাওড়া খালি, গোদাখালি, দড়িপাড়া, সুতানাড়া, বিবিপাড়া, চন্দনবাইশা, নিজ চন্দনবাইশা, নৌখিলা স্কুল পাড়া, ঘুঘুমারি, শেখপাড়া, পন্ডিতপাড়া, বিঘপাড়া, আদর্শ গ্রাম আংশিক প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় দুর্গত মানুষের জন্য এখনও কোনও সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

ধুনট উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম তৌহিদুল ইসলাম মামুন জানান, আগাম বন্যার পানিতে ধুনটের চিকাশী, গজারিয়া, চুনিয়াপাড়া গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আরও নতুন নতুন এলকায় পানি প্রবেশ করছে।

এদিকে, আগাম বন্যার ফলে সারিয়াকান্দি উপজেলার অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। গত দুই দিনেও সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী না পৌঁছানোয় দুর্গত এলাকার মানুষ কষ্টে আছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত ত্রাণ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।

/বিএল/এএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।