দুপুর ০২:৩৩ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৭ জুন, ২০১৯  

বিওয়াইএলসি’র তরুণ নেতাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

এহতেশাম ইমাম॥

নেতৃত্বের সংজ্ঞা কি? এই শব্দটিকে ঘিরে হাজার হাজার উত্তর মিললেও কমবেশি সবগুলোতে খুজে পাওয়া যাবে আরেকটি শব্দের উপস্থিতি। আর তা হচ্ছে সমতা। নেতৃত্বমনা মানুষগুলোর মাঝে এই সমদৃষ্টির প্রবণতা তৈরির দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশীপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি)।

বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে হয়ে গেল তারুণ্য নির্ভর এই প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বপ্রদান বিষয়ক কর্মশালার ১২তম সমাপনী আসর।  'বিল্ডিং ব্রিজেস থ্রু লিডারশিপ ' শীর্ষক দেড়মাসব্যাপী এই কর্মশালায় সম্মানিত করা হয় অংশগ্রহণ করা বাংলা, ইংরেজি ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থার ৪৪ শিক্ষার্থীকে।

বিওয়াইএলসি এদেরকে চার-ধাপ বিশিষ্ট কঠোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাছাই করে এনেছিল বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে।  এক্ষেত্রে ১৪৫ টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩৭০ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে এই চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয় এই ৪৪শিক্ষার্থীকে।

দেড়মাসের এই কর্মশালায় শিক্ষার্থীরা নেতৃত্বদান সর্ম্পকে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেয়েছে। বিওয়াইএলসির এই কর্মশালা শুধু পাঠ্যপুস্তকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলনা।  প্রথম ১৫ দিনের ওয়ার্কশপ শেষে শিক্ষার্থীরা কাজ শুরু করে পুঁথিগত বিদ্যার বাস্তব প্রতিফলণ ঘটাতে। 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই তরুণ নতুন নেতারা তুলে ধরেন দীর্ঘ দেড়মাসে অর্জিত বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্বদানের অভিজ্ঞতা। তারা জানান কীভাবে একই ছাদের নিচে কাজ করে সম্ভব কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়। আর এ কারনে সবার আগে দরকার সবার প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সর্ম্পক উন্নয়ন।

বিওয়াইএলসির প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি ইজাজ আহমেদ  বলেন,তরুণদের সবচেয়ে বেশি দরকার  নিজের উৎসাহ ধরে রাখা।  বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানুষ অনেক উদ্যোম নিয়ে কাজ করলেও খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। আর স্বপ্নবাজদের জন্য তার উপদেশ হচ্ছে, যেকোন প্রতিকূলতার মধ্যেই নিজের উদ্যমের প্রতি আস্থা রেখে কাজ করে যেতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন লক্ষ্য, নেটওয়ার্ক ও পরিচিতি। এই ট্রেনিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো  সর্ম্পকেই ধারণা দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন তিনি। সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমিত্ব বাদ দিয়ে সবাইকে নিয়ে চিন্তা করা। এটাই সবচেয়ে বড় শক্তি।

বিওয়াইএলসির চ্যেয়ারপার্সন ও নোভিস্টা ফার্মাগ্রুপের পরিচালক আখতার মতিন চৌধুরী বললেন ভিন্ন কথা। কুসংস্কার থেকে সরে আসতে আহ্বান জানালেন তিনি। তার মতে,  কুসংস্কার, অশিক্ষার মতো বিষয়গুলো সমাজকে সঠিক পথের উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্ত করছে। তবে তার বিশ্বাস তরুণ প্রজন্ম ক্ষীণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বের হয়ে আসবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, মোবাইল অপারেটর রবির প্রধান নির্বাহী সুপুন ভিরাসিংহে। তিনি বলেন, দেশের যুব সমাজকে যোগ্য নেতৃত্ব বিষয়ক শিক্ষা এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারে। তরুন প্রজন্মকে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য গড়ে তুলতে সঠিক নেতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বিওয়াইএলসির অবদানের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

আগামী ২৬ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিল্ডিং ব্রিজেস থ্রু লিডারশীপ ট্রেনিং-জুনিয়র এর আয়োজনের ঘোষণার মধ্যদিয়ে শেষ হয় উদ্যমী তরুণদের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের।

পুরো অনুষ্ঠান জুড়েই ছিল তারুণ্যের কোলাহল। আনন্দ আর হুল্লোড়। আগামীর নেতাদের চোখে ছিল প্রতিজ্ঞা, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার।

/এফএএন/  

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।