বিকাল ০৪:০৯ ; শুক্রবার ;  ২২ নভেম্বর, ২০১৯  

বিপদসীমার ওপরে তিস্তার পানি, নীলফামারীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

প্রকাশিত:

নীলফামারী প্রতিনিধি॥

ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার চার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি সুইসগেইট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র্র জানায়, উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে শনিবার তিস্তা ব্যরেজ পয়েন্টে সকালে বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কিন্তু বেলা ৩টার দিকে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে চার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার।

এদিকে তিস্তায় পানি বাড়ায় নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার, গোলমুড়া, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এরইমধ্যে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তাপারের ২৫টি গ্রাম ও চর বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া উজানের পানি প্রবাহে উপজেলার খালিশাচাঁপানী ইউনিয়নের সুপারীটারী ছোটখাতা এলাকায় ৫'শ ফিট একটি মাটির ক্রস বাঁধ বিদ্ধস্ত হয়েছে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি, উত্তর খড়িবাড়ি, দক্ষিণ খড়িবাড়ি, পুর্বখড়িবাড়ি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পাঁচ শতাধিক বাড়িতে পানি ঢুকেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় প্লাবিত এলাকাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, শনিবার তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি বাড়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে অনেকের বাড়িতে হাঁটু পানি উঠেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শনিবার বেলা ৩টায় ডালিয়ায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্ট বিপদসীমার চার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে করে তিস্তা পারে স্বাভাবিক বন্যা শুরু হয়েছে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেইট খুলে রাখা হয়েছে।

/এসএম/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।