বিকাল ০৫:১২ ; শনিবার ;  ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯  

বাকস্বাধীনতার নামে জঙ্গিবাদকে উসকে দেওয়া হচ্ছে: ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

বাক স্বাধীনতার অর্থ অশ্লীলতা ও গালিগালাজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জের  শোলাকিয়ার ইমাম ও বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তিনি বলেন, বাক স্বাধীনতার নামে লাগামহীন বক্তব্য দেওয়া ও ইসলামি হুকুম-আহকাম নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য মত প্রকাশ গ্রহণযোগ্য নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মানুষ হত্যা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিও জমিয়ত সমর্থন করে না। বর্তমানে বাকস্বাধীনতার নামে লাগামহীন বক্তব্যে জামায়াত ও জঙ্গিবাদকে উসকে দেওয়া হচ্ছে। বুধবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মী সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বিচারকার্যের ধীরগতি দেখে এ দেশের জনগণের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের যেকোনও  ছাড়  মানুষ, সমাজ ও দেশের শান্তি বিঘ্নিত করবে এতে কোনও সন্দেহ নেই।

কওমি মাদ্রাসাকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলার প্রতিবাদ জানিয়ে  মাসউদ বলেন, কওমি মাদ্রাসা শান্তির বাতিঘর হিসেবেই ১৮৬৬ সালে যাত্রা শুরু করেছিল।  জঙ্গিবাদের তকমা এঁটে নৈতিক শিক্ষার একমাত্র শিক্ষাব্যবস্থা কওমি মাদ্রাসা বন্ধের ষড়যন্ত্র চলছে। এই অব্যাহত প্রচেষ্টায় ইংরেজ বেনিয়াদের অপচেষ্টার কথা কেউ ভোলেনি। আজ তাদের দোসররাই কওমি মাদ্রাসার আলো নিভিয়ে দিতে তৎপর। কোনও অজুহাত দেখিয়ে এক মুহূর্তের জন্যও মাদ্রাসা বন্ধ করা যাবে না।

ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বলেন, অবিলম্বে কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি প্রদান করে কওমি  মাদ্রাসাকে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে হবে। কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দিলে দেশের শিক্ষার হারও বেড়ে যাবে। চুয়াল্লিশ বছরেও কেউ কওমি মাদ্রাসা দিকে ফিরে তাকায়নি।

ভারতের দেওবন্দে পড়াশোনা করতে ভিসা প্রসেসিং সহজ করার আহ্বান জানান তিনি।   

কর্মী সম্মেলনের ১০টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। এরমধ্যে রয়েছে, কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, জামায়াতের সকল আর্থিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও প্রকাশনা নিষিদ্ধ করা, মানবপাচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ইমাম মুয়াজ্জিনদের সম্মানজনক বেতন কাঠামো, নারীর প্রতি সব ধরনের অসম্মান ও সহিংসতা বন্ধ করা ইত্যাদি।

মাওলানা হুসাইনুল বান্নার পরিচালনায় ও সংগঠনের সহ-সভাপতি আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, মাওলানা হুসাইন আহমদ, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাইফী, মাওলানা আইয়ুব আনসারী, মাওলানা রুহুল আমীন উজানবী, মুফদি ইবরাহীম শিলাস্থানী, মাওলানা আবু সুফিয়ান যাকি, মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ, মাওলানা আবদুর রহীম প্রমুখ।

/সিএ/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।