দুপুর ০১:৩৩ ; রবিবার ;  ২৬ মে, ২০১৯  

স্থলসীমান্ত চুক্তি: সমাধান হয়নি তিনবিঘা করিডর ইস্যুর

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

গত ৬ জুন ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বহুল কাঙ্ক্ষিত স্থলসীমান্ত চুক্তি সই হয়। ঐতিহাসিক এ চুক্তির মাধ্যমে  দু’দেশে তাদের ভেতর থাকা ছিটমহল বিনিময় করবে। তবে সব ছিটমহলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও, সিদ্ধান্ত হয়নি দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার তিনবিঘা করিডর নিয়ে। দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা নিয়ে কেন সিদ্ধান্ত হল না-সে প্রশ্নেই নতুন করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক। এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় পত্রিকা আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে।  

দলের বিধায়ক পরেশ অধিকারীর অভিযোগ, তিনবিঘা করিডরের কারণেই মেখলিগঞ্জের ওই এলাকা চোরাকারবারীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। চলছে অবাধে সীমান্ত পারাপার। এমনকি কুচলিবাড়ির মানুষ ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

পরেশের প্রশ্ন, ‘সরকার কেন এই অঞ্চলের মানুষদের কথা ভাবল না সেটাই রহস্য। ছিটমহল বিনিময় যখন হল তখন দহগ্রাম-আঙ্গরপোতাকে আলাদাভাবে কেন দেখা হবে? আমরা সে জবাব চাই। এর প্রতিবাদে ধারাবাহিক আন্দোলন করা হবে।’

২৬ জুন তিনবিঘায় ‘শহীদ দিবস’ পালন ও জনসভা করে সরকারের ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা ছিল ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমেই করিডরের সমস্যা সমাধান হবে। তা হল না।’ বর্তমানে তিনবিঘা করিডর দিয়ে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার মানুষ অবাধে বাংলাদেশে যাতায়াত করতে পারে।

১৯৯২ সালে ভারতের মেখলিগঞ্জের কুচলিবাড়ি এলাকায় তিনবিঘা করিডর করা হয়। ভারতের মধ্যে থাকা বাংলাদেশি ছিটমহল দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার সঙ্গে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের জন্য চুক্তি করে তিনবিঘা করিডর খুলে দেওয়া হয়। তিনবিঘা করিডর চালুর বিরোধিতায় কুচলিবাড়ি উত্তাল হয়ে ওঠে। ফরওয়ার্ড ব্লক ও বিজেপি প্রতিবাদ আন্দোলন করে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ২ জন আন্দোলনকারীর মৃত্যুও হয়। ওই দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে পালন করেন স্থানীয় বেশ কয়েকটি সংগঠন। প্রথমে এক ঘণ্টা অন্তর করিডর খোলা রাখার কথা থাকলেও পরে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা তা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

/এসটি/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।