রাত ০৮:৪৭ ; মঙ্গলবার ;  ১৮ জুন, ২০১৯  

শিশু অধিকার রক্ষাই পরম দায়িত্ব: কৈলাশ সত্যার্থী

প্রকাশিত:

কৈলাশ সত্যার্থী ভারতের মধ্যপ্রদেশের এক শিশুপ্রেমী। তিনি গত বছর বিশ্ব শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন শিশু অধিকার রক্ষা নিয়ে নিরলস কাজ করে। মিডিয়াবিমুখ এই ব্যক্তিত্ব সম্প্রতি বাংলাদেশ ঘুরে গেলেন। এর মধ্যে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন তার নানা অভিজ্ঞতার কথা। বাংলা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এহতেশাম ইমাম।

এই শিশু অধিকার রক্ষাকর্মী প্রথমেই বললেন, শিশুদের কথা। তার মতে, শিশুরা দারিদ্র্যের জন্য দায়ী নয়, শিশুশ্রম দারিদ্র্যের জন্য দায়ী...

আমাদেরকে বিশ্বাস করতে হবে দারিদ্র্য শিশুশ্রমের কারণ হতে পারেনা। বরং, শিশুশ্রম দারিদ্যকে বাড়ায়। বিশ্বব্যাপী বর্তমানে ১৬ কোটি ৮০ লাখ শিশু দৈনিক আট ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করছে। আর  বিশ্বব্যাপী বেকার মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২'শ মিলিয়ন।এই পুরো বিষয়টি একটি নষ্ট চক্র। শিশুদেরকে যদি আপনি বড়দের কাজ করান তাহলে কম উপযোগী মানুষেরা কাজ হারাবে। এ কারণে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে সবার আগে বেকারদের নিয়োগ। অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিশুশ্রম কখনওই সমাধান হতে পারেনা।

দ্বিতীয়ত সরকারের উচিৎ শিশুশিক্ষার হার বাড়াতে আরও অর্থ বরাদ্দ করা। এ ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন তরুণ ও পূর্ণ বয়স্কদের জন্য আলাদা ভাতার ব্যবস্থা করা। ফলে যারা জীবিকার তাগিদে স্কুল বিমুখ হচ্ছে তাদের স্কুলে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে।

উদহারণ স্বরূপ বলা যায়, ভারতে সরকারি স্কুলগুলোতে মেয়ে এবং নিম্ন বর্ণের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ভ‌‌াতা ব্যবস্থা শুরু হওয়ার পর ‌‌‌থেকে স্কুল বিমুখ শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এ জন্য স্কুলগামী ছাড়াও তরুণদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন ভাতা (শিক্ষা,স্বাস্থ্য )নিশ্চিত করা গেলে ব্যাপক আশাব্যাঞ্জক সাড়া পাওয়া যাবে বলেই বিশ্বাস করেন কৈলাশ সত্যার্থী।

আরেকটি কথা প্রতিটি শিশু গুরুত্বপূর্ণ । আমার জন্য প্রতিটি শিশু গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি নয় শিশুটি কোথায় জন্মেছে। কিন্তু এটা ভাবা জরুরি যে প্রতিটি শিশু কিছুনা কিছু বিশেষত্ব নিয়ে জন্মায়। আর এ কারনে শিশু অধিকার নিশ্চিত করতে পারলে সেই বিশেষত্বকে কাজে লাগানো যাবে।

শিশু শ্রম নিয়ে কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে উঠে আসে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাতব্য কর্মসূচি। কৈলাশ বিশ্বাস করেন, আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায় গরীবদেশগুলোকে যা দিচ্ছে সেটি এসব দেশের পাওনাএটি দয়া নয়, দায়িত্ব...   

বিভিন্ন দেশে আর্ন্তজাতিক দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমকে সাম্রাজ্যবাদের আধুনিক রূপ। কিন্তু,আমি বিষয়টি সর্ম্পকে এককভাবে কোনও মন্তব্য করতে চাচ্ছিনা। তবে আমার মতে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে মূলত ব্যবহার ও মানসিকতার ওপর। আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায় উন্নয়নের বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিলেও বেশিরভাগ সময় সেগুলো কার্যকর হয়না। শিক্ষাখাতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিভিন্ন আর্ন্তাজতিক সম্প্রদায় প্রতিবছর অর্থ বরাদ্দ বাড়ালেও,বারবার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার বিষয়টি স্পষ্টত দৃশ্যমান। এই বিশ্বায়নের এ যুগে ধনী দেশগুলো নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে অর্থ সহায়তা দিয়ে কোনও দয়া করছে না। কারণ,এ দেশগুলো থেকে তারা বিভিন্ন ব্যবসায় ব্যাপক মুনাফা অর্জন করছে। ফলে উন্নয়নের নামে পাওয়া টাকা তাদের অধিকার।

ব্যাপারটিকে আরেক ভাবেও দেখা যেতে পারে- আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায় যখন গ্লোবাল ভিলেজের কথা বলছে তাহলে তাদের উচিৎতাদের উক্তির প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশ করা।

আর্ন্তজাতিক দাতা-গ্রহীতা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে...  

আর্ন্তজাতিক দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনেক সময়ই তাদের সরকার  বা ইউরোপিয় ইউনিয়নের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রার নির্দেশ পালন করতে হয়। ফলে তাদের পক্ষ্যে সবসময় এককভাবে সহায়তার লক্ষ্যে কাজ করা কঠিন।

আমি মনে করি, পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে লক্ষ্য অর্জনে প্রতিষ্ঠানগুলোর গৃহীত পদক্ষেপ ও মানসিকতার ওপর। উন্নয়নের প্রসঙ্গে দাতা-গ্রহীতার এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি কোনওভাবেই কাম্য নয়।

এ ক্ষেত্রে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হবে,কোনও রাষ্ট্র বা ব্যক্তি এককভাবে কোন বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। কারণ,বিশ্বে কোনও সমস্যাই একক সমস্যা নয়। সমস্যা নিরসনে সবার আগে প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।

সম্প্রতি সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু মানব পাচার। কৈলাশ সত্যার্থী মানবপাচার বিষয়েও বললেন। তার মতে এ ধরনের অন্যায় বন্ধে কোনও অজুহাত থাকতে পারেনা ...

মানব পাচার একটি লজ্জাজনক বিষয়।একটি বড় অংশের নেপালি এবং বাংলাদেশি নারী প্রতিবছর ভারত ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে পাচার হচ্ছে। গৃহস্থালি কাজ,শ্রমিক,যৌন ব্যবসার মতো বিভিন্ন কাজে তাদের পাচার করা হচ্ছে। এটি বন্ধে কোনও অজুহাত থাকতে পারেনা। তবে,আপনাকে এটাও বুঝতে হবে অবৈধ এ বাণিজ্যটির বিশ্বব্যাপী দেড়হাজার কোটি ডলারের বিশাল বাজার। এছাড়া,সীমান্তরক্ষীরা নিরাপত্তাকর্মী থেকে সরকারি বিভিন্ন স্তরে কর্মকার্তার এর সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে কোনওভাবে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা যাবেনা। যেকোনও পরিস্থিতিতে আপোষহীন হওয়া যাবে না মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের রুখতে।

মানুষের অধিকারে বিশ্বাসী হোন...

আমি বিশ্বাস করি মানুষের অধিকার। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে তাদের সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়টি অণুপ্রাণিত করে অনেক বেশি। যে কারণে যেকোনও আয়োজনে মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণকে উদ্বুদ্ধ করি।  আমি কয়েক বছর আগে শিশুশিক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে “মহাচক্র” নামে একটি ক্যাম্পেইন এর আয়োজন করি। এখানে ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে এই দলের সদস্যরা  ৬০ হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করে। একটি দল উত্তর আফ্রিকা,আরেকটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও অপরটি ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা থেকে যাত্রা করে। পরে শিশুশ্রম বন্ধের লক্ষ্যে কঠোর আইনের দাবি নিয়ে দলগুলো ইউরোপের জেনেভায় একত্রিত হয়। এই দাবির প্রেক্ষিতেই পরবর্তীকালে বেশ কিছু কঠোর আইন প্রণয়ন করে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো।   

তৃণমূলই সত্যিকারের শক্তি

আমি বিশ্বাস করি বিশ্বে পরিবর্তন সম্ভব তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের দ্বারা। এ ক্ষেত্রে আপনাকে আরও একটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে। সেটি হচ্ছে আমি মূলত তৃণমুল পর্যায়ে মানুষকে তাদের অধিকার বিষয়ে সচেতন করতে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আমাকে সমাজের সব স্তরের মানুষের সঙ্গেই কাজ করতে হয়। এটি সবাইকে করতে হয়। তবে আমাদের লক্ষ্য থাকা উচিৎ সাধারণ স্তরের মানুষদের নিয়ে কাজ করা। কারণ তৃণমূল পর্যায়ের মানুষগুলোর মধ্যেই থাকে বিশ্বকে আরও সুন্দর করার স্বপ্ন।

বাংলাদেশ-ভারত নয়,সমান উন্নয়ন হতে হবে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের...

আমি কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নই। তবে আমি বিশ্বাস করি দক্ষিণ এশিয়া বিশ্ব রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতৃত্বদানকারী অবস্থানটি নিতে পারে। আর এ ক্ষেত্রে ভারত,পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ আলাদভাবে নয়,বরং একযোগে পাশাপাশি কাজ করলে দক্ষিণ এশিয়া পুরোপুরি একটি আলাদা শক্তি হয়ে দাড়াবে। এক্ষেত্রে আমরা সার্কের শক্তিকে ব্যবহার করতে পারি।

বাংলাদেশ বিমুগ্ধ করেছে...

প্রতিবেশি এ দেশে প্রথম এসেছিলাম ৩০ বছর আগে। আর এ সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশের অর্জন বিশাল বললেও ভুল হবেনা। এ দেশের সামাজিক অগ্রগতি দেখে অনেকাংশে অভিভূত হই। এখানকার তরুণরা তাদের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিয়ে কথা বলার বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন ও প্রাণবন্ত।

নতুন বিয়ের বয়সসীমা নির্ধারণ ঠিক হবে না

বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রগতির পাশাপাশি একটি বিষয় আমাকে উদ্বিগ্ন করেছে। সেটি হচ্ছে বিয়ের বয়সসীমা পুনঃনির্ধারণ। আমার মতে বাল্যবিবাহ নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা। যে কারণে এ বয়সসীমা কমানো আত্মঘাতী হবে। আর ১৬ বছর বয়সের একটি শিশুকে বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্পৃক্ত করা উচিৎ হবে না।

টেকসই উন্নয়নে চাই পূর্ণ গণতন্ত্র

আমি বিশ্বাস করি যেকোনও দেশের টেকসই উন্নয়নে সবার আগে প্রয়োজন গণতন্ত্রের সুষম বন্টন। এটি ছাড়া, কোন উন্নয়নই স্থায়ী রূপ লাভ করতে পারে না। এর ধারাবাহিকতায় দরকার দারিদ্র দূরীকরণ। পুরো বিষয়টি এককভাবে ধরে রাখতে দরকার শিক্ষার ব্যপক প্রচার। যা প্রতিটি মানুষকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতন করে তুলবে। আর গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে পুরো বিষয়টি উন্নয়নের দিকে নির্দেশনা দেবে সবাইকে।

উন্নয়নের নামে বিশ্বকে পিছিয়ে নিচ্ছেন ধনীরা

মানুষের চাহিদা মেটাতে বিশ্বব্যাপী বাড়ছে উৎপাদন। কিন্তু নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে স্বল্পখরচে অধিক মুনাফার লোভে বিভিন্ন কারণে বেড়েছে শিশুশ্রম। যেটি বিশ্বকে পিছিয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। তবে,১৯৯৫ সাল থেকে এ ধারায় বিশেষ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্যণীয়। এই বছরগুলোতে একদিকে কমেছে শিশুশ্রম অন্যদিকে যোগ হয়েছে স্কুলবিমুখ শিক্ষার্থীর সংখ্যা। যেটি কেবল সম্ভব হয়েছে ব্যক্তি পর্যায়ের পদক্ষেপ থেকে আর্ন্তজাতিক পর্যায়ের সচেতনতা। যদিও বিষয়টি খুব বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেনি। তবে উন্নয়নটি ধারাবাহিকতা রক্ষা করে্ হচ্ছে।

প্রয়োজন সরকার,সুশীল সমাজ ও কর্পোরেশনগুলোর একযোগে কাজ করা

উন্নয়নের পথে বিভিন্ন দেশের সরকার,কর্পোরেশন এবং সিভিল সোসাইটিকে একযোগে কাজ করতে। সাধারণত সরকারই রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।যেটি  অনেকক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য নয়।  বরং উন্নয়নের জন্য দরকার সমন্বয় । পারস্পারিক ক্ষোভ, দ্বন্দ্ব একপাশে রেখে এই তিন সেক্টরেরই উচিত একসঙ্গে কাজ করা। এই তিনটি অংশ একযোগে কাজ করলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন আরও দ্রুত হবে বলেই বিশ্বাস করি।

এক মিনিট দেরির অর্থ একমিনিটের জন্য বিশ্বকে পিছিয়ে দেয়া

আমি বিশ্বাস করি কোন কাজে এক মিনিট দেরি করা মানে এক মিনিটের জন্যকে বিশ্বকে পিছিয়ে দেয়া। আমরা সবসময় উলটো পথে চলি। তাই পিছিয়ে যেতে যেতে এতটাই পিছিয়ে পড়েছি যে আর কোনও সময় নেই আমাদের হাতে।

বাংলাদেশেও চাই জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন

আমি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়াকে বাদ দিয়ে কোনও কার্যক্রম নিয়ে ভাবতে পারিনা। পুরো দক্ষিণ এশিয়াই আমার বাড়ি। এখানে তরুণদের সম্পৃক্ততা ছাড়া কোনও ক্যাম্পেইন সম্ভব নয়। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক সমস্যা আছে এবং একই সঙ্গে সমাধানও আছে। আর যে কারণে বাংলাদেশের অসংখ্য তরুণদের হাতে আছে বিশ্বকে বদলে দেবার সক্ষমতা।

প্রচার হিসেবে গণমাধ্যম নয় চাই  ‘শিশু ও আর তরুণদের কণ্ঠ’

আমার দীর্ঘ ৩৮ বছরের বছরের অধিকার নিয়ে সংগ্রামের পথচলায় কখন গণমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরির চেষ্টা করিনি। মানুষ আমাকে শিশুদের সহায়তায় এক রুপি,একশ’ রুপি থেকে হাজার রুপি পর্যন্ত দিয়েছে। তবে সেটি আমার প্রচারণার জন্য নয়,বরং শিশুদের কল্যাণে।

আমি বেশিরভাগ জাতীয় এবং আর্ন্তজাতিক পর্যায়ের সম্মেলনগুলোতে সবসময় প্রতিকূলতা জয় করে নেওয়া শিশুদের কথা বলতে চেষ্টা করেছি।

১৯৯৫ সালে কেরি কেনিডি প্রকাশ করেন বিশ্ব পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা ৫০ নেতার নাম। যার মধ্যে আমার নামও ছিল।  সেই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেলে, আমি যেকোনও একটি শিশুকে আমার স্থানটি দেওয়ার অনুরোধ জানাই। পরে আমার সফরসঙ্গী হয়  কালু নামে এক শিশু। কালু তার জীবনের বাস্তবতার যেভাবে মুখোমুখি হয়েছে আমি সেটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারি না।  আমি তাকে ছয় বছর বয়সে শিশুশ্রমিক থেকে উদ্ধার করেছিলাম। তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেওয়ার পর সে নিজেকে একজন ভাল শিক্ষার্থী হিসেবে প্রমাণ করা ছাড়াও অন্যন্য পথশিশুদের উন্নয়নের কাজ শুরু করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে। কালু সেই অনুষ্ঠানে সবার আকর্ষণের মধ্যমণি হয়ে উঠেছিল।  

কালু সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়েছিল তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের সঙ্গে কথা বলার। সেসময় কালু বলে, বিশ্বের ২৫ কোটি শিশু এখনও দাসত্বের শিকার। আমি তাদের মধ্যে সৌভাগ্যবান একজন যে আপনাদের সামনে উপস্থিত হতে পেরেছি।

সেসময় ক্লিন্টন বিশ্বের দাস শিশুদের প্রসঙ্গে অধিক মনোযোগী হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তার কিছুদিন পরেই

ক্লিন্টন প্রশাসন আর্ন্তজাতিক শ্রম অধিদফতরে শিশুদের শ্রম থেকে মুক্তি দিতে বার্ষিক বাজেট চারগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

এ ঘটনার পর থেকেই আমি আরও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, শিশু ও তরুণদের উচ্চকণ্ঠই প্রধান গণমাধ্যম হওয়া উচিত।

নিজেকে আবিষ্কার করুন,স্বপ্ন ছড়িয়ে দিন সবার মাঝে

নিজের অর্ন্তনিহিত শক্তিকে অনুধাবন করুন। আর সেটির সবচেয়ে সঠিক ব্যবহার করুন পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির। এ ক্ষেত্রে সবচেয় গুরত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে তরুণরা। এই ক্ষমতাগুলোই বিশ্বকে পারে সঠিক পথে বদলে দিতে। অশুভকে পরাজিত করুন নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে।

ছবি : সাজ্জাদ হোসেন

/এফএএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।