বিকাল ০৫:০৭ ; বৃহস্পতিবার ;  ২১ নভেম্বর, ২০১৯  

নরেন্দ্র মোদির সফরে ছিটমহলে উল্লাস

প্রকাশিত:

পঞ্চগড় প্রতিনিধি॥ 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে পঞ্চগড়ের ছিটমহলবাসীর চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক। নরেন্দ্র মোদির সফরে পঞ্চগড়ের ৩৬টি ছিটমহলের হাজার হাজার নারী, পুরুষ ও শিশু দীর্ঘদিনের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাচ্ছে। তাই ছিটমহলগুলোয় চলছে আনন্দের বন্যা। শনিবার দুপুরে জেলার বোদা উপজেলার ভেতরে অবস্থিত ভারতীয় পুঠিমারি ছিটমহলে আনন্দ মিছিল করেছে বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি। জেলায় অবস্থিত ভারতীয় অন্য ছিটমহলগুলোয়ও আনন্দ-উল্লাস চলছে।

ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত ছিটমহলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল। ভারতের সরকার লোকসভা ও রাজ্যসভায় স্থল সীমান্ত চুক্তি বিল পাস করে। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী চূড়ান্ত বিলে স্বাক্ষর করেন। ফলে দীর্ঘদিনের সেই যন্ত্রণার অবসান হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। তিনি ছিটমহলবাসীদের নাগরিকত্বসহ বন্দি জীবনের মুক্তি দিয়ে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন পুঠিমারি ছিটমহলের আব্দুস সাত্তার।

একই ছিটমহলের আনোয়ারা ও দিপালী রানী বলেন, 'স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন অনেক যন্ত্রণায় ছিলাম। নাগরিকত্ব পাবো, সরকারিভাবে স্বাস্থ্যসেবা পাবো এতে আমরা খুব খুশি।'

নরেন্দ্র মোদির এই সফর ছিটমহলবাসীদের ৬৮ বছরের যন্ত্রণার অবসান ঘটাবে বলে আশা জানিয়েছেন বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। ছিটমহলবাসীর জন্য বাংলাদেশ সরকার বাজেটে ২শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।

বোদা উপজেলার ৫৯ নং ভারতীয় পুঠিমারি ছিটমহলের চেয়ারম্যান তছলিম উদ্দিন বলেন, 'ভেবেছিলাম কোনও দেশের নাগরিকত্ব বুঝি এই জীবনের আর হবে না। অবশেষে আমাদের দিকে তাকিয়েছেন হাসিনা-মোদি। ছিটমহলের মানুষ তাদের নাম সারাজীবন মনে রাখবে।'

বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সভাপতি মো. মফিদার রহমান বাংলাদেশ ও ভারত সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে ছিটমহলের জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে দুই দেশের সরকারের প্রতি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। ছিটমহলবাসীরা যে যেভাবে জমি ভোগদখল করে আসছে ঠিক সেভাবেই যেন কাগজপত্র করা হয় দুই দেশের সরকারের প্রতি এই দাবি জানান তিনি।

বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু আউয়াল জানান, নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি ছিটমহলে আইন-শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট জানান, সদর উপজেলার অভ্যন্তরে যেসব ছিটমহল রয়েছে সেগুলোয় পানি ও স্যানিটেশনের জন্য ইতোমধ্যে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, ছিটমহল বিনিময় হয়ে গেলে ছিটমহলবাসীদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় আনা হবে।

/বিএল/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।