দুপুর ০৩:৪১ ; শুক্রবার ;  ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮  

বাজেট বস্ত্র ও পোশাক খাত বান্ধব নয়

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

বাজেটে তৈরি পোশাক রফতানিতে প্রস্তাবিত উৎসে কর হার বাড়ানোকে এ শিল্পের বিকাশে বাধা বলে মনে করছেন পোশাক ও বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীরা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেনছেন, ‘বাজেট বস্ত্র খাত বান্ধব নয়’।

বিজিএমইএ কার্যালয়ে শুক্রবার আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিমত ব্যক্ত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে পোশাক মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ, নিট পোশাক মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ ও টেক্সটাইল মিল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ। এতে লিখিত বক্তব্য পড়েন বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান, বিটিএমএ সভাপতি তপন চৌধুরী, বিজিএপিএমইএ সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী প্রমুখ।

তিনি বলেন, “তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা ধসের পর তৈরি পোশাক কারখানার সংস্কার কার্যক্রম চলছে। এতে উদ্যোক্তাদের কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। আবার গত এক বছর ধরে ডলারের বিপরীতে ইউরোর অবমূল্যায়ন চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই পরিস্থিতিতে এ খাতে উৎসে কর হার দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। এতে নিট ও ওভেন পোশাক খাতে নতুন করে ঝুঁকি বাড়বে। প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে আমরা টিকতে পারব না।”

সরকার নতুন বাজেটে ৭ শতাংশের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তা এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেন তিনি।

আতিকুল ইসলাম বলেন, “চলতি অর্থবছরে তৈরি পোশাক শিল্পে ১০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অথচ প্রথম ১০ মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছে সিপিডি। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) উৎসে কর বাড়ানোর সরকারের সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক বলে মত দিয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, চলতি অর্থবছরে (২০১৪-১৫) অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তার অংশ হিসেবে উৎসে কর হার কমানো হয়েছিল। আগামী অর্থবছরে তা আগের চেয়ে সামান্য বাড়ানো প্রস্তাবটি সঠিক।

উৎসে কর না বাড়িয়ে বিদ্যমান হার বহাল রাখার অনুরোধ জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, “বিদ্যমান হার বজায় রাখলে, আগের মতো নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।”

এদিকে, যন্ত্রপাতি আমদানিতে বাজেটে প্রথমবারের মতো ১ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এটি কমানোর দাবি জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, “বিভিন্ন কারণে বর্তমানে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে। এ অবস্থায় আমদানিতে ১ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলে, তা উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করবে।”

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে সরকার তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে উৎসে কর দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে নামিয়ে দশমিক ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করে। এ হার চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকার কথা।

এ ছাড়া, প্রস্তাবিত ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বাজেটে হিমায়িত খাদ্য, পাট, চামড়া, সবজি ও প্যাকেটজাত রফতানি পণ্যের ওপরও ১ শতাংশ উৎসে কর নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বর্তমানে দশমিক ৬০ শতাংশ।

/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।