দুপুর ০১:৫৭ ; মঙ্গলবার ;  ১৭ জুলাই, ২০১৮  

বাজেটে পুঁজিবাজার সম্প্রসারণে নীতি সহায়তা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

প্রস্তাবিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পুঁজিবাজারের সহায়ক বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তি করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি, করপোরেট কর হ্রাস, ভালো লভ্যাংশ না দিলে জারিমানা, উৎসে কর প্রত্যাহার, আইপিও'র জন্য কর রেয়াত সুবিধা।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় বাজেট ঘোষণায় তিনি এ সব বিষয় প্রস্তাব করেন।

বাজেট বক্তৃতায় পুঁজিবাজারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিগত চার বছরের কার্যক্রমের ফলে পুঁজিবাজার এখন একটি ভালো অবস্থানে পৌঁছেছে। পুঁজিবাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরও কোম্পানিকে আকৃষ্ট করতে চাই।”

পুঁজিবাজার বিষয়ে প্রস্তাবিত বাজেটের উল্লেখযোগ্য দিক:

বাড়ছে করমুক্ত আয় বা লভ্যাংশ সীমা

ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ থেকে আয়ের করমুক্ত সীমা বর্তমান অর্থবছরের বিদ্যমান ২০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ২৫ হাজার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কমছে করপোরেট ট্যাক্স

অর্থ আইন ২০১৫ অনুসারে, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কর হার আড়াই শতাংশ কমানো হয়েছে। এ হার ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মার্চেন্ট ব্যাংকের ক্ষেত্রে অপরিবর্তিত ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ রয়েছে।

এ ছাড়া, আর্থিক খাত ব্যতিত অন্যান্য কোম্পানির কর হার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এর হার ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

আর টেলিকম খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ৪০ শতাংশ ও তালিকা বহির্ভূত কোম্পানির ৪৫ শতাংশ বিদ্যমান কর হার বজায় রাখার প্রস্তাব করা রয়েছে।

তবে, তামাক কোম্পানির কর হার ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

লভ্যাংশ ভালো না দিলে জরিমানা

স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি ১৫ শতাংশের কম লভ্যাংশ ঘোষণা করলে জরিমানা হিসেবে গুণতে হবে। এক্ষেত্রে অবণ্টিত নিট মুনাফার (মুনাফা থেকে লভ্যাংশ বাদ দিলে যা থাকবে) ওপর বাড়তি ৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। নূন্যতম ১৫ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ নগদ বা বোনাস শেয়ার- যে ধরনেরই হতে পারে।

তবে এটি আর্থিক খাত তথা ব্যাংক, বিমা ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না।

এ ছাড়া, শাস্তিমূলক কর এড়াতে কোম্পানিকে অবশ্যই হিসাব বছর শেষ হওয়ার ৬ মাসে মধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণা করতে হবে।

আইপিওর জন্য কর রেয়াত

কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ২০ শতাংশ শেয়ার প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে ছাড়লে সংশ্লিষ্ট বছরের কোস্পানিটি প্রযোজ্য আয় করের ওপর ১০ শতাংশ কর রেয়াত পাবে।

উৎসে কর প্রত্যাহার

আয়কর অধ্যাদেশের ৫৩(ও) ধারা বিলুপ্ত করে ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে উৎসে কর আদায় থেকে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। গত অর্থ বছরে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে ফার্ম বা কোম্পানি করদাতার মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর আদায়ের বিধান প্রত্যাহার করা হয়েছে।

/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।