সকাল ১১:৫৩ ; শনিবার ;  ২১ জুলাই, ২০১৮  

‘জনস্বাস্থ্য নয়, তামাক কোম্পানিগুলো লাভবান হবে’

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিড়ি সিগারেটের ওপর করারোপের বিষয়ে যৌথভাবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বেসরকারি গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রগতির জন্য জ্ঞান  (প্রজ্ঞা), তামাকবিরোধী সাংবাদিকদের সংগঠন এন্টি টোবাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) ও হিউম্যান ডেভেলপেমেন্ট রিসার্স সেন্টার (এইচডিআরসি)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাঠানো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সংগঠন তিনটি বলেছে, বাজেটে বিড়ি, সিগারেট ও ধোঁয়াবিহীন তামাকে যে করারোপের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী করেছেন, তাতে জনস্বাস্থ্য নয়, বড় তামাক কোম্পানি লাভবান হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার পরপরই বিভিন্ন সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও বেসরকারি টেলিভিশনগুলোর অফিসে পাঠানো তাৎক্ষণিক এক বাজেট প্রতিক্রিয়া পাঠানো হয়।

প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়,  বিড়ি ও কমদামি সিগারেটে সামান্য করবৃদ্ধি করা হলেও ধোঁয়াবিহীন তামাকে করারোপের কোনও পদক্ষেপ নেই এবারের বাজেটে। দামি সিগারটে করহার প্রায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গতবছরের তুলনায় এবছরে জনগণের আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় কার্যত দামি সিগারেট আগের বছরের  তুলনায় সস্তা হয়ে গেল। কেবল বড় তামাক কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবারের বাজেটে,  জনস্বাস্থ্য  সুরক্ষার তেমন কোনও পদক্ষেপ নেই।

এবারের বাজেটে প্রথম বারের মতো সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য বেঁধে দিয়ে তার ওপর একটি সম্পূরক শুল্ক ও মূসক আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। প্রতি দশ (১০) শলাকা সিগারেটের সর্বনিম্ন ভিত্তিমূল্য প্রস্তাব করা হয়েছে ১৯ টাকা এবং এর ওপর সম্পূরক শুল্ক  ধার্য করা হয়েছে  ৪৮ শতাংশ। অর্থমন্ত্রীর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় কিন্তু, অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেছেন সিগারেটের মূল্যসীমা নির্ধারণ করা বাজার অর্থনীতিতে মোটেও কাম্য নয়, তবু তিনি করহার ঠিক রেখে অন্যান্য স্তরের সিগারেটের মূল্যস্তর পুনর্বিন্যাস করেছেন। মধ্যম স্তরে গতবারের মতোই ৬১% সম্পূরক শুল্ক রেখে ৫০-৫৪ টাকার পরিবর্তে ৪০-৬৯ টাকা এবং উচ্চস্তরে সম্পূরক শুল্ক মাত্র ৩% বাড়িয়ে মূল্যস্তর ৯০ টাকা থেকে কমিয়ে ৭০ টাকা ও তদূর্ধ্ব নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন। এর মাধ্যমে বহুজাতিক তামাক কোম্পনিগুলোকে অর্থমন্ত্রীর সুবিধা প্রদানের প্রয়াসই সুস্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। এভাবে বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলোকে বেশি করে মুনাফা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া হলো। তামাক কোম্পানিকে সুবিধা প্রদান করে তামাক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

বিড়ির মূল্য (করসহ) বৃদ্ধি করা হয়েছে ১৫ শতাংশ, যা বিড়ির অতি অল্প মূল্যের বিবেচনায় একেবারেই পর্যাপ্ত নয়।  বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, করসহ প্রতি প্যাকেট ফিল্টারবিহীন বিড়ির মূল্য ৬ দশমিক ১৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৬  টাকা করা হয়েছে।  অর্থাৎ, প্রতি শলাকা বিড়ির মূল্য বাড়বে মাত্র ৩ পয়সা।  এছাড়া, ‘ফিল্টারযুক্ত’ বিড়ির দামও বাড়ানো হয়েছে। এবারের বাজেটে বিড়ি তৈরির পেপারের ওপর প্রথমবারের মতো ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।  

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এদেশে সবচেয়ে কম কর দেয় তামাক বা সিগারেট শিল্প। অথচ এই শিল্প জনস্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি করে। এজন্য তিনি সিগারেট ব্যবসায়ের আয়কর এবং করপোরেট কর দুটোই বৃদ্ধিও প্রস্তাব করেছেন। সিগারেট উৎপাদন ব্যবসা থেকে অর্জিত করযোগ্য আয়ের শূন্য-ত্রিশ শতাংশ পর্যন্ত ৪৫ শতাংশ কর প্রদান করতে হবে। এছাড়াও কোম্পানির করহারের ক্ষেত্রে পাবলিকলি ট্রেডেড ও নন-পাবলিকলি ট্রেডেড সকল সিগারেট কোম্পনিকে ৪৫ শতাংশ হারে কর প্রদান করার প্রস্তাব করেছেন। তামাক নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এটি করা হয়েছে, যদিও সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধিতে এর কোনও ভূমিকা থাকবে বলে মনে হয় না।  তবু তামাক কোম্পানির আয়কর এবং করপোরেট কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। তবে এক্ষেত্রে বিড়ি শিল্পকে দুঃখজনকভাবে ছাড় দেওয়া হলো।

জর্দা, গুলসহ ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়তে থাকলেও এবারের বাজেটে এগুলোর ওপরে কর বাড়ানো হয়নি যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় তামাকের স্বাস্থ্যক্ষতির কথা বারবার  উল্লেখ করেছেন যা অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে তামাক বিরোধী আন্দোলনকারীরা আনন্দিত হবেন তখনই যখন তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য সত্যিকারের কার্যকর কর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।  বিশ্বব্যাপী পরীক্ষিত এসব পদক্ষেপের কথা সরকারের রাজস্ব বোর্ড ভালো করেই জানে। শুধু দরকার এ পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

/এসআই/ এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।