সন্ধ্যা ০৬:৩৭ ; রবিবার ;  ১৯ মে, ২০১৯  

সাক্ষ্য আইন পরিবর্তনে প্রধান বিচারপতির সুপারিশকে স্বাগত জানাল ব্লাস্ট

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

ধর্ষণের ক্ষেত্রে ১৪৩ বছরের পুরনো স্বাক্ষ্য আইনের পরিবর্তন প্রয়োজন সংক্রান্ত প্রধান বিচারপতির সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছে নারী অধিকার বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।
বিতর্কিত এই আইন ১৪৩ বছরের পুরনো হলেও স্বাধীনতার পরও কোনও সরকার তা বিলুপ্ত করতে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আইনগুলো পরিবর্তনের কথা বলেন।
ব্লাস্টের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতবছর ব্লাস্ট আয়োজিত “বাংলাদেশে ধর্ষণ মামলায় চারিত্রিক প্রমাণের ব্যবহার: সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-এর ১৫৫ (৪) ধারা” শীর্ষক সম্মেলনে আলোচক আইনজীবী, বিচারক, ও মানবাধিকারকর্মীরা একমত হন যে, নারীর অধিকার রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ (৪) ধারা বিলুপ্ত করা প্রয়োজন। বক্তারা বলেন, ওই আইনের সুযোগ নিয়ে জেরা করার সময় ধর্ষণের শিকার নারীকে অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত, আপত্তিকর প্রশ্নের মাধ্যমে চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়। এ কারণে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবার মামলা করতে নিরুৎসাহিত হন ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। 
“ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে ভিকটিমের চরিত্র সম্পর্কে সাক্ষ্য গ্রহণ, ধর্ষণ প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন এবং ধর্ষণের গ্রহণযোগ্য বৈশিষ্ট্য প্রমাণ এর ওপর একটি তুলনামূলক পর্যবেক্ষণ” শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করে ব্লাস্ট। যাতে কানাডা, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য এই সাতটি দেশের ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। 
গবেষক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফাতেমা শুভ্রা বলেন, “বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীনে ‘নারী একটি বিশেষ যৌনক্রিয়ায় একটি বিশেষ পুরুষের সাথে যৌনতায় সম্মত ছিলেন কি ছিলেন না ধর্ষণের এই সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞায়ন থাকা সত্ত্বেও ভিকটিমকে সাক্ষ্য আইনের ১৫৫(৪) ধারার কারণেই ধর্ষণ মামলা দায়ের করতে গেলে ‘নৈতিক চরিত্রের’ পরীক্ষা দিতে হয়। ওই পরীক্ষা শেষে নারীটি আদৌ মামলা করার জন্য উপযুক্ত কি না, এই বোঝাপড়া বিচারালয়ে প্রমাণিত হয়। আইনিভাবে ধর্ষণ কী, সেটি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও ধর্ষণ মামলায় যখন ভিকটিমের অতীত ‘চরিত্র’, আগেকার যৌন সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়,  তখন এটি নারী-বিদ্বেষী, সর্বোপরি সংবিধান বিরোধী একটি দ্বৈত আইনব্যবস্থা কায়েম করে। মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী নারীবিদ্বেষী পুরুষতান্ত্রিক প্রতিকূল প্রেক্ষাপট দমনে সাক্ষ্য আইনের ৫(৪) ধারা সম্পূর্ণ বাতিলকরণ অতি জরুরি।”
ব্লাস্টের নাওমী নাজ চৌধুরী বলেন, “ধর্ষণের শিকার যারা হয়ে থাকেন বা হয়েছেন তাদের প্রতিকারে এ ধরনের ১৪৩ বছর আগে অন্তর্ভুক্ত করা প্রাচীন আইনটির সংশোধন অতি জরুরি। একটি ধর্ষণের মামলায় ধর্ষিতার চরিত্রের প্রতি আঘাত করা এবং তার পূর্বের যৌন সম্পর্কের ইতিহাস টেনে আনা যে তার প্রতি কতটা অনুভূতিহীন এবং অপ্রাসঙ্গিকই শুধু নয়, তাকে একটি অগ্নিপরীক্ষায় ঠেলে দেওয়া এবং তার প্রতি ন্যায়বিচার অস্বীকার করাও বটে, এশিয়ার অন্যান্য দেশের মত তা উপলব্ধি করবার সময় এখন বাংলাদেশেরও এসেছে।” 

/জেএ/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।