ভোর ০৬:১১ ; রবিবার ;  ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬  

সিম মিলছে মুদি দোকানেও, জব্দ করতে অভিযান জেলায়-জেলায়

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হিটলার এ. হালিম॥

রাজধানীসহ সারা দেশের অলিতে-গলিতে এমনকি মুদি দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে মোবাইলফোনের সিম। এ সব জায়গায় প্রাপ্ত সিম কোনও নিবন্ধন ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে। আর এ সব সিম দিয়েই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার দাবি। এ সব অনিবন্ধিত সিম ধরতে এবং বিক্রি বন্ধ করতে ঢাকার মতো জেলা শহরগুলোয়ও অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ঢাকার বাইরে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এরই মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জেলা প্রশাসকদের কাছে 'অবৈধ সিম' ধরতে অভিযান পরিচালনার চিঠি পাঠানো হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা আজই (সোমবার) জেলায়-জেলায়  অভিযান পরিচালনা সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছি। তিনি আরও বলেন, মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর কাছেও চিঠি পাঠানো হচ্ছে। ওই চিঠিতে আমরা বলেছি, বাজারে অনিবন্ধিত সিম পাওয়া যাচ্ছে। এ সব বন্ধ করুন। প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিন।

ওই কর্মকর্তা জানান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ ব্যাপারে সাধারণত দুটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। অনিবন্ধিত সিম বিক্রিতে অপারেটরগুলোর কোনও গাফিলতি আছে কি না, তা আমরা দেখি। তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া অপারেটররা যেসব ডিলার ও রিটেইলারদের মাধ্যমে সিম বিক্রি করে, তারা সঠিকভাবে এবং যেভাবে সিম বিক্রি করার কথা সেভাবে করছে কি না, এসব নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি দেখভাল করে। তিনি উল্লেখ করেন, এরই মধ্যে রাজধানীতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী অভিযান পরিচালনা করেছেন। ওই অভিযানে মুদি দোকানেও মোবাইল সিম পাওয়া গেছে। ওই কর্মকর্তার প্রশ্ন- সিম কেন মুদি দোকানে পাওয়া যাবে? এসব সিম দিয়েই হুমকি ধমকি দেওয়া হচ্ছে, অবৈধ ভিওআইপি করা হচ্ছে।

এদিকে, কয়েকদিন আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, কোন চক্রের মাধ্যমে মোবাইল সিম অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে সেই সূত্রটি আমরা ধরতে চাই। তিনি আরও বলেন, ঢাকার মতো জেলা শহরগুলোয়ও যেন অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ সিম  বিক্রেতাদের শাস্তি দেওয়া যায়, সেই ব্যবস্থা করছি। জরিমানা থেকে শুরু করে আইনের যেসব বিধান আছে, সেগুলো যেন  তারা প্রয়োগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে নির্দেশনা পাঠানো হবে।

এদিকে, সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে অনিবন্ধিত মোবাইল সিম বিক্রির দায় বর্তায় অপারেটরগুলোর কাঁধে। অপারেটররা কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সিম বিক্রি করলে কোনওভাবেই নিবন্ধনবিহীন সিম বিক্রি সম্ভব নয়। অথচ দিনের পর দিন সেটাই হচ্ছে। ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তকরণ সম্পর্কে শ্লিষ্টরা বলছেন, অপারেটরগুলোর গাফিলতিতেই এটা হচ্ছে। যদিও অপারেটরগুলো বরাবরই বলে আসছে, নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজ একসেস করার সুযোগ পাওয়া গেলে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অপারেটরগুলোর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজ এখনই ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার বলেন, মোবাইলের সিম নিবন্ধন ছাড়া বিক্রি হয়। মোবাইল অপারেটররা বলে আমরা পরিচয় নিশ্চিত করতে পারি না বলে সিম নিবন্ধন সঠিক হয় না। সিম কিনতে জাতীয় পরিচয়পত্র লাগে। এর সঠিকতা যাচাই করতে পারলেই পরিচয় নিশ্চিত করা যায়। অপারেটররা বলে নির্বাচন কমিশন তাদের সেই সুযোগটা দেয় না। কিন্তু আজ (রবিবার) দেখলাম ডাচ বাংলা ব্যাংক নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাদের ডাটাবেজ শেয়ার করার জন্য চুক্তি করেছে। মোবাইল অপারেটররা এই কাজটি করে না কেন? 

/এমএনএএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।